একা সন্দীপ ঘোষ নন, আরজি করের আর্থিক দুর্নীতি মামলায় আরও তিনজনকে একসঙ্গে গ্রেফতার করেছে সিবিআই৷ সূত্রের খবর, সন্দীপ ঘোষের দেহরক্ষী আফসার আলি, হাসপাতালের ভেন্ডর সুমন হাজরা, বিপ্লব সিনহাকেও গ্রেফতার করেছ...
একা সন্দীপ ঘোষ নন, আরজি করের আর্থিক দুর্নীতি মামলায় আরও তিনজনকে একসঙ্গে গ্রেফতার করেছে সিবিআই৷ সূত্রের খবর, সন্দীপ ঘোষের দেহরক্ষী আফসার আলি, হাসপাতালের ভেন্ডর সুমন হাজরা, বিপ্লব সিনহাকেও গ্রেফতার করেছে সিবিআই। সিবিআই জানা গিয়েছে, আরজি করের আর্থিক দুর্নীতি কাণ্ডে সন্দীপ ঘোষ ছাড়াও সুমন হাজরা, বিপ্লব সিনহা এবং আফসর আলি খান নামে তিনজনকে এ দিন গ্রেফতার করা হয়েছে৷ এদের বিরুদ্ধেও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি গোয়েন্দাদের।
আরজি কর হাসপাতালে দুর্নীতির তদন্তে নেমে সিবিআই সন্দীপের পাশাপাশি বেশ কয়েকজনের নাম জানতে পারে । সূত্রের খবর, তাঁদের মধ্যে একজন হাওড়ার সাঁকরাইলের বাসিন্দা বিপ্লব সিংহ ৷ সন্দীপের সঙ্গে বিপ্লবের ‘গভীর’ সম্পর্ক ছিল ৷ অভিযোগ, বিপ্লবের সংস্থা ‘মা তারা ট্রেডার্স’ হাসপাতালে চিকিৎসার সরঞ্জাম সরবরাহ করতেন সন্দীপ। অন্যদিকে, ধৃত আফসর আলি খান সন্দীপের ডানহাত বলে আরজি কর হাসপাতালে পরিচিত ছিল৷ সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, আফসর সন্দীপের নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কাজ করতেন। সন্দীপের হয়ে অনেককে হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছিল আফসর আলি খানের বিরুদ্ধে৷
সিবিআইয়ের অভিযোগ, এই তিনজনকে বেআইনি ভাবে হাসপাতালে ক্যাফে এবং পার্কিং লট সহ বিভিন্ন বরাত পাইয়ে দিয়েছিলেন সন্দীপ৷ গত ১৬ অগাস্ট থেকে সিজিও কমপ্লেক্সে টানা জিজ্ঞাসাবাদের পর অবশেষে সোমবার সন্ধ্যায় সিবিআইয়ের অ্যান্টি করাপশন ব্রাঞ্চের অফিসাররা সিজিও থেকে বের করে নিজাম প্যালেসে নিয়ে যান৷ তারপরই জানা যায় যে দুর্নীতি কাণ্ডেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে ৷ এ দিন সন্দীপের পাশাপাশি এই তিনজনকেও দীর্ঘদিন জিজ্ঞাসাবাদ করে সিবিআই৷ তার পর রাতে একসঙ্গে সন্দীপ সহ চারজনকেই গ্রেফতার করে সিবিআই৷
উল্লেখ্য, গত ২১ অগাস্ট সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে যে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত চলছে তা সিবিআইয়ের বদলে ইডির হাতে দেওয়ার আবেদন করে, কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন আরজি কর মেডিক্যাল কলেজেরই প্রাক্তন ডেপুটি সুপার আখতার আলি। এর আগে রাজ্য সরকার সন্দীপের বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত করতে স্পেশাল টাস্কফোর্স বা SIT তৈরি করে কিন্তু কলকাতা হাইকোর্ট ২৩ অগাস্ট সিটের হাত থেকে ওই তদন্তভার কেড়ে নিয়ে সিবিআই-কে দেয়। এরপরই সিবিআইয়ের হাতে উঠে আসে একাধিক বিস্ফোরক তথ্য।