গরম পড...">
গরম পড়তেই শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে প্রচুর পরিমাণে জল বেরিয়ে যায়। ফলে শরীরে জলশূন্যতার ঝুঁকি বেড়ে যায়। কিন্তু ব্যস্ত জীবনযাত্রার কারণে অনেকেই সময়মতো জল খেতে ভুলে যান। দিনের শেষে দেখা যায় মাথাব্যথা, ক্লান্তি, মুখ শুকিয়ে যাওয়া কিংবা মনোযোগ কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তাই গরমের দিনে শরীরকে সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত জল পান করা অত্যন্ত জরুরি। অনেকেরই তেষ্টা না পেলে জল খাওয়ার কথা মনে পড়ে না। কিন্তু তেষ্টা লাগা মানেই শরীর ইতিমধ্যেই কিছুটা জলশূন্য হয়ে পড়েছে। তাই তেষ্টা পাওয়ার অপেক্ষা না করে নিয়মিত জল পান করার অভ্যাস গড়ে তোলা দরকার।
জল খাওয়ার কথা মনে রাখার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো মোবাইলে রিমাইন্ডার সেট করা। প্রতি এক বা দুই ঘণ্টা অন্তর অ্যালার্ম দিলে জল খাওয়ার কথা সহজেই মনে থাকবে। বর্তমানে এমন অনেক মোবাইল অ্যাপও রয়েছে, যা দৈনিক জলপানের হিসাব রাখে এবং সময়মতো নোটিফিকেশন পাঠায়। সবসময় নিজের কাছে একটি জলের বোতল রাখার অভ্যাস করুন। অফিসে, বাড়িতে বা বাইরে—চোখের সামনে বোতল থাকলে জল খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হাতের নাগালে জল থাকলে মানুষ তুলনামূলকভাবে বেশি জল পান করে।
শুধু সাধারণ জল নয়, খাবারের তালিকায় জলসমৃদ্ধ ফল ও সবজি রাখুন। তরমুজ, শসা, বাঙ্গি, কমলা ও নারকেলের জল শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে। এগুলো গরমের দিনে শরীরকে সতেজ রাখার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদানও সরবরাহ করে।অনেকের কাছে বারবার সাধারণ জল খেতে বিরক্তিকর লাগে। সেক্ষেত্রে জলে লেবুর রস, পুদিনা পাতা বা কিছু ফলের টুকরো যোগ করে স্বাদ বাড়ানো যেতে পারে। এতে জল পান করা আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। একসঙ্গে অনেকটা জল খাওয়ার বদলে অল্প অল্প করে বারবার জল পান করুন। এতে শরীর সহজে জল শোষণ করতে পারে এবং অস্বস্তিও কম হয়। গরমের দিনে সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি হলো পর্যাপ্ত জল পান। তাই ছোট ছোট কিছু অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে জল খাওয়ার বিষয়টিকে দৈনন্দিন রুটিনের অংশ করে তুলুন। এতে পানিশূন্যতার ঝুঁকি কমবে এবং শরীর থাকবে সতেজ ও কর্মক্ষম।