Calcutta Television Network

জয়গড় দুর্গের রহস্যময় গুপ্তধন ও জরুরি অবস্থার ভারত

জয়গড় দুর্গের রহস্যময় গুপ্তধন ও জরুরি অবস্থার ভারত
15 October 2026 • 04:31:34 pm

সুদূর রাজস্থান। বালির শহর। কেল্লার শহর। ইতিহাসের শহর। এই শহর জুড়ে কত আখ্যান। কত গল্প লুকিয়ে আছে প্রতিটি কোণে। হাওয়ায় কান পাতলে শোনা যায় রোমহর্ষক ফিসফাঁস। যদিও রাজস্থান একসময় ছিল বহু গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধের রণক্ষেত্র। ১৩১০-১১ সাল নাগাদ হয়েছিল, রক্তক্ষয়ী জালোরের যুদ্ধ। সম্রাট আলাউদ্দিন খলজি দীর্ঘ যুদ্ধে পরাজিত করেন কানহাদ দেওকে। পরবর্তীতে আকবর ও ঔরঙ্গজেবের দুটি মুঘল আক্রমণের যুদ্ধস্থলও ছিল এটি। এই অঞ্চলে ঘুরলে আজও দেখা যায় প্রচুর প্রাচীন দুর্গ, হাভেলি, প্রাসাদ প্রভৃতি। তেমনই একটি দুর্গ জয়গড় দুর্গ। এটি নির্মিত হয়েছিল পঞ্চদশ থেকে অষ্টদশ শতাব্দীর মধ্যে। আমেরের রাজকোষও এখানেই থাকতো। এমনকি তাদের প্রতিরক্ষা দপ্তরও এখানেই স্থাপিত ছিল। প্রাচীর দ্বারা পুরো দুর্গটি ঘেরা থাকতো। শোনা যায়, ভূগর্ভস্থ পথের মাধ্যমে চলতো খবর আদানপ্রদান। বেলেপাথর দিয়ে তৈরী এই গোটা স্থাপত্যটি।

কিন্তু গোলমাল বাঁধে অন্য এক রহস্য নিয়ে। যা আজও দুর্গের পুরোনো ইঁটের খাঁজে অশ্বত্থ চারার মত আটকে দিনযাপন করে। ১৯৭৭, দেশজুড়ে জারি হয়েছে জরুরি অবস্থা। প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী কোনো এক গোপন সূত্রে খবর পেলেন যে এই দুর্গের জলের ট্যাঙ্ক কিংবা অন্তরের কোনোস্থানে বিপুল পরিমান গুপ্তধন লুকানো আছে। তৎক্ষণাৎ তল্লাশির নির্দেশ আসে প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে। শুরু হয় অভিযান। 

সেই থেকেই জন্ম নেয় বিতর্ক। রাজপরিবারের সম্পত্তিতেও অনুসন্ধান শুরু হয়। গায়ত্রী দেবী তখন কারারুদ্ধ। অনেকেই মনে করেন ইন্দিরা গান্ধী সেই গুপ্তধন পেয়েছিলেন, যা আজ অবধি বাইরে আসেনি। প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবী করেন, জয়পুর দিল্লী মহাসড়ক অবরোধ করা হয়েছিল। এমনকি কেউ কেউ বলেন, দুর্গ থেকে সেনাবাহিনীর ট্রাকের একটি বহর সেদিন বেরিয়ে রাজধানীর উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল। তবে সরকারি নথিপত্রে এর কোনো সঠিক উল্লেখ কিন্তু পাওয়া যায় না। যদিও এই নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যেও মতবিরোধ আছে। অনেকেই মনে করেন সেই অনুসন্ধানে আদৌ নাকি কিছু উদ্ধারই হয়নি। তাই যতদিন ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাস থাকবে, বিতর্কও সমান্তরালভাবে বিদ্যমান থাকবে। তবে আজও কিন্তু পর্যটকরা এই গুপ্তধনের আশায় এই দুর্গে ভিড় জমান। অনেকে প্রাচীন নকশা জোগাড় করে তার ভিত্তিতেও অনুসন্ধান চালান। তবে সবটুকু মিলিয়েও বেঁচে থাকে প্রাচীন স্থাপত্য ও জমাটি ইতিহাস। গুপ্তধন সন্ধানে না হোক, অন্ততঃ সুবিশাল জয়বানা কামান দর্শনে অন্ততঃ একবার পাড়ি দেওয়াই যায় বালির শহরে।