ধীরে ধীরে পুনরায় সেরে উঠতে শুরু করেছে গাজা। কিন্তু নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের অভাব ও খাদ্য সংকট গাজাবাসীর সামনে প্রকাণ্ড প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এবার সেই প্রাচীর টপকে গাজাকে ত্রাণ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়...
ধীরে ধীরে পুনরায় সেরে উঠতে শুরু করেছে গাজা। কিন্তু নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের অভাব ও খাদ্য সংকট গাজাবাসীর সামনে প্রকাণ্ড প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এবার সেই প্রাচীর টপকে গাজাকে ত্রাণ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। মিশরের শর্ম-আল-শেখ শহরে গাজা শান্তি সম্মেলন চলাকালীন এমনই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন ভারতের প্রতিনিধি কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিংহ। গাজায় ত্রাণ পাঠানোর পাশাপাশি শহরের পুনর্গঠন করতেও সাহায্য করবে নয়া দিল্লি।
যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরেই একে একে শতাধিক প্যালেস্টাইনি আবার গাজায় নিজের বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছে। তবে নামেই কেবল বাড়ি, আক্ষরিক অর্থে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই শহরের বুকে। এই পরিস্থিতিতে আতঙ্ক কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করাটাই একটা চ্যালেঞ্জ। নেই রোজগার, হাতের সামনে নেই বেঁচে থাকার ন্যূনতম প্রয়োজনীয় সামগ্রীরও। তার উপরে খাদ্যের নিদারুন আকাল তো রয়েছেই। তাই এবার গাজাবাসীর জীবন লড়াইয়ের পথ একটি মসৃণা করতে সেখানে খাবার, মহিলাদের জন্য স্যানিটারি সামগ্রী, ওষুধ, কম্বল, তাবু-সহ আরও একাধিক প্রয়োজনীয় জিনিস পাঠাতে চলেছে ভারত।
মানবিক সাহায্যের পাশাপাশি, ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজাকে আবার নতুন গড়ে তুলতেও সহয়তা করার পরিকল্পনাও নিয়েছে নয়া দিল্লি। এই পদক্ষেপ শুরু করার আগে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করার কাজে সাহায্য করা হবে। সারিয়ে তোলা হবে গাজা শহরের জল এবং নিকাশি ব্যবস্থাও। সেই কাজেও সাহায্য করবে ভারত। এই গোটা পুনর্নির্মাণে আনুমানিক ৭০০ কোটি মার্কিন ডলার খরচ হতে পারে বলে অনুমাণ আমেরিকার। এই বিষয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জের এক কর্তা জ্যাকো সিলিয়ার্সের দাবি, গত দু'বছরের যুদ্ধে গাজা শহরে কমপক্ষে পাঁচ কোটি পঞ্চাশ লক্ষ টন ধ্বংসস্তূপ তৈরি হয়েছে। যা পরিষ্কার করতে কয়েক দশক সময় লেগে যেতে পারে বলেও ধারণা তাঁর।
গত মঙ্গলবারই ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানান হয়েছে, ভারত সর্বদা কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে পশ্চিম এশিয়ায় সমস্যা সমাধান চেয়ে এসেছে। পাশাপাশি গাজায় মার্কিন প্রধান ট্রাম্পের শান্তি চুক্তির পরিকল্পনাকেও সমর্থন করেছে ভারত।