হাসপাতালের বেডে শুয়ে হনুমান চালিশা জপ করছেন, আর চোখে জল। ফোনের ওপারে দেশের প্রধানমন্ত্রী। বিদেশের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বীর পাইলট স্মিত মচ্ছরকে শুক্রবার ফোন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। খোঁজ নিল...
হাসপাতালের বেডে শুয়ে হনুমান চালিশা জপ করছেন, আর চোখে জল। ফোনের ওপারে দেশের প্রধানমন্ত্রী। বিদেশের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বীর পাইলট স্মিত মচ্ছরকে শুক্রবার ফোন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। খোঁজ নিলেন শারীরিক অবস্থার, দিলেন দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার আশ্বাস।
৩৯ বছরের স্মিত মচ্ছর জানালেন, বিপদে পড়লেই তিনি হনুমান চালিশা পাঠ করেন। বুধবার ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে হামলার সময়, প্রাণ যখন ওষ্ঠাগত, তখনও তিনি চালিশা জপ করছিলেন। মোদীকে তিনি বলেন, তাঁর মা গীতা তাঁকে ভগবদ্গীতার শিক্ষা দিয়েই বড় করেছেন। মোদী জানান, তিনি স্মিতের মায়ের সঙ্গেও কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গর্বের সঙ্গে বলতে পারে, ভারতীয়রা অন্যের প্রাণ কাড়ে না, বরং প্রাণ বাঁচাতে নিজের প্রাণ বিপন্ন করতেও প্রস্তুত থাকে।’
নিজের ১৭ বছরের উড়ানের অভিজ্ঞতার কথা শোনান স্মিত। গত ১১ বছর ধরে তিনি ক্যাপ্টেন। আবেগপ্রবণ গলায় বলেন, ‘চোখ বন্ধ থাকলেও বুঝতে পারি ককপিটে কী হচ্ছে। আমি জানতাম শেষবারের মতো চেষ্টা করতেই হবে। আমি সর্বশক্তি দিয়ে ককপিটের দরজা খোলার চেষ্টা করছিলাম। দরজা খুলতেই অন্যরা ভেতরে আসে। বিমান হাইজ্যাক রুখতে সবার সমান ভূমিকা ছিল।’
স্মিত আরও বলেন, ‘আমি অনেক আঘাত পেয়েছিলাম, কিন্তু নিজেকে বলেছিলাম উঠে দাঁড়াতেই হবে। সেই মুহূর্তে আমি নিজের জীবনের জন্য লড়ছিলাম। পড়ে গিয়েছিলাম, বুঝেছিলাম না উঠলে মারা যাব।’
এর আগে কথোপকথনের শুরুতেই মোদী তাঁর সাহসিকতার প্রশংসা করে বলেন, ‘আপনার অসীম সাহসের কাজে দেশ গর্বিত। যখন প্রয়োজন, একটি ফোন করবেন।’ উত্তরে চোখের জলে ভেসে স্মিত বলেন, ‘আমি কখনও ভাবিনি আপনার সঙ্গে কথা বলতে পারব। আপনি আমার সবচেয়ে বড় আদর্শ।’ তখন মোদী বলেন, ‘আমার কাছে আপনি আবেগপ্রবণ হবেন না তো কোথায় হবেন!’