কাদম্বীনির ময়নাতদন্তের রিপোর্ট কি সঠিক? তা নিয়ে আজ সুপ্রিম কোর্টে সংশয় প্রকাশ করেছেন আইনজীবী ফিরোজ এডুলজি। প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের এজলাসে এদিন মামলার শুনানি চলাকালীন তিনি আরও কিছু ...
কাদম্বীনির ময়নাতদন্তের রিপোর্ট কি সঠিক? তা নিয়ে আজ সুপ্রিম কোর্টে সংশয় প্রকাশ করেছেন আইনজীবী ফিরোজ এডুলজি। প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের এজলাসে এদিন মামলার শুনানি চলাকালীন তিনি আরও কিছু বিস্ফোরক তথ্য বিচারপতিদের নজরে আনেন। আর তাতে রীতিমতো প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় রাজ্যের আইনজীবি কপিল সিব্বলকে।
এদিন এজলাসে, ময়নাতদন্ত সঠিক ভাবে হয়েছে কি না তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আইনজীবী ফিরোজ এডুলজি। তিনি বলেন, “রাত পৌনে ১২টায় এফআইআর দায়ের হয়েছিল। গত ২৭ বছরের কর্মজীবনে আমি এমন মামলা দেখিনি।” তিনি এক জনস্বার্থ মামলাকারীর পক্ষে সওয়াল করছেন আদালতে। তখন সিবিআইয়ের তরফেও জানানো হয়, ময়নাতদন্ত কখন করা হয়েছে— সেই সময়ের উল্লেখ নেই। যদিও রাজ্যের আইনজীবীর যুক্তি, সব কিছু উল্লেখ রয়েছে। তখন প্রধান বিচারপতির এজলাসে এডুলজি বলেন, “দুপুর আড়াইটা থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত শুধুমাত্র ১০ বার জিডি এন্ট্রি করা হয়েছে। পুরোটা পরে তৈরি করা হয়নি তো? অনেক রহস্য রয়েছে।” সেই সংশয়ের প্রেক্ষিতে রাজ্যের তরফে জানানো হয়, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সন্দেহ হলে তাঁর কাছে রিপোর্ট চাওয়া হোক। সিবিআইয়ের তরফও আদালতে জানানো হয়, ফরেন্সিক রিপোর্ট নিয়ে তাদের মনেও প্রশ্ন রয়েছে। তাই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সেটি এমসে পাঠাতে চায়।
পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের চালান দেখতে চান প্রধান বিচারপতি। উত্তরে আইনজীবী সিব্বল বলেন, এই মূহুর্তে চালান তার কাছে নেই। সে ক্ষেত্রে সিবিআইয়ের কাছে চাওয়া হয় চালানের কপি। সিবিআই আধিকারীকরা বলেন চালানের কোনো কপি রাজ্য দেয়নি। কিছুটা বিস্মিত প্রকাশ করে বিচারপতি চন্দ্রচূড় বলেন, ‘কোনো চালান ছাড়া কীভাবে একটি ময়নাতদন্ত হতে পারে?’ একাধিক বিষয় নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ।
উল্লেখ্য, শুনানি শেষে ডাক্তারদের কাজে ফেরার নির্দেশ দিলেন প্রধান বিচারপতি। তিনি স্পষ্টই বলেন, “আগের শুনানিতেও আন্দোলনরত ডাক্তারদের কাছে ফেরার অনুরোধ করেছিলাম। বলা হয়েছিল, কাজে ফিরলে আন্দোলনরত ডাক্তারদের উপর রাজ্য কোনো ব্যবস্থা নিতে পারবে না। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কাজে যোগ না দিলে রাজ্য যদি কোনো ব্যবস্থা নেয় সেক্ষেত্রে আমাদের কিছু করার নেই।”