এবার ডিজিটাল গ্রেফতারির শিকার হলেন বর্ধমানের এক সাধু বাবা। কিন্তু ভিডিও কল করেও মিলল না কিছুই। সাধু বাবার থেকে কোনও কিছু না পেয়ে, তাড়াতাড়ি ভিডিও কল কেটে আশীর্বাদ চায় প্রতারকরা। পাল্টা প্রতারকদের আশ...
এবার ডিজিটাল গ্রেফতারির শিকার হলেন বর্ধমানের এক সাধু বাবা। কিন্তু ভিডিও কল করেও মিলল না কিছুই। সাধু বাবার থেকে কোনও কিছু না পেয়ে, তাড়াতাড়ি ভিডিও কল কেটে আশীর্বাদ চায় প্রতারকরা। পাল্টা প্রতারকদের আশীর্বাদ দিয়ে সাধু বাবা বলেন, 'তোমাদের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক'।
জানা গিয়েছে, বর্ধমানের পালিতপুরে তিব্বতী বাবার আশ্রমের সাধু অশোক চক্রবর্তী। সাধারণরত তাঁর কাছে কোনও ফোন এলে তিনি 'ওম, নমো: শিবায়, বাবা তোমার মঙ্গল হোক' বলে তিনি ফোন রিসিভ করেন। প্রত্যুত্তরে সাধারণত ফোনের ওপারে থাকা ব্যক্তিরা তাঁকে প্রণাম করে তাঁর কুশল মঙ্গলের কথা জিজ্ঞাসা করেন। কিন্তু গত মঙ্গলবার তেমনটা হয়নি। অশোক চক্রবর্তীর দাবী অনুযায়ী, এদিন ফোন তুলতেই একটু ভারী গলায় একজন বলেন, আপনার নামে মুম্বইয়ের একটি থানায় ১৭টি কেস রয়েছে। আগামী দু'ঘণ্টা পর থেকে আপনার ফোন বন্ধ হয়ে যাবে। এমন কথা শুনে সাধুবাবার তো মাথায় আকাশ ভেঙে পরার মতো উপক্রম। কিছুটা স্তম্ভিত হয়ে তিনি বলেন, বাবা তুমি কে? আমি কোনও দিন কারও ক্ষতি করিনি। কোনও অন্যায় কাজের সঙ্গেও যুক্ত হইনি। আমার নামে কী করে এতগুলি কেস হল?
এরপরেই প্রতারকরা সাধু বাবার কাছে ভিডিও কলের অনুমতি নিয়ে ভিডিও কল করে। ভিডিও কলে দেখা যায় একজন পুলিসের পোশাক পরে বসে আছে। অফিসার সুলভ আচরণ নিয়ে ওপার থেকে তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়, আপনার কতগুলি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে? কত সম্পত্তি রয়েছে? যে ঘরে থাকেন সেটা ঘুরিয়ে দেখান। ওপারে থাকা পুলিস আধিকারিকের কথা মতো তিনি চারদিক ঘুরিয়ে দেখাতে থাকেন। হাঁটতে হাঁটতে বলেন, আমার একটাও অ্যাকাউন্ট নেই। কোনও সম্পত্তিও নেই। তবে খাবার অভাব হয় না। আশ্রমে আসা ভক্তরা সহযোগিতা করেন। এই কথা শুনে নিজেই কিছুটা হতভম্ব হয়ে পরে প্রতারক। সাধুর কাছ থেকে কিছুই মিলবে না বুঝতে পেরে তারা বলতে থাকে, আপনাকে কিছু করতে হবে না। এরপরই সাধু বলেন, তোমার শুভবুদ্ধির উদয় হোক। তারপর আর ফোন আসেনি।
সাইবার প্রতারকদের নয়া হাতিয়ার ডিজিটাল অ্যারেস্ট। তারা একটি ঘর থানার মতো করে রেখেছে। সেখানে পুলিসের পোশাক পরে প্রতারকরা বসে থাকে। ভিডিও কল করলে পুলিসের পোশাক পরা ব্যক্তিকেই প্রথমে দেখা যায়। তা দেখে অনেকেই হতবাক হয়ে যান। অনেকেই প্রতারকদের জালে জড়িয়ে মোটা অঙ্কের টাকা খুইয়েছেন। জনগণকে সচেতন করতে কেন্দ্রীয় সরকার 'ডিজিটাল অ্যারেস্ট' নিয়ে লাগাতার প্রচার করছে। তারপরও অনেকেই তাদের ফাঁদে পরছেন। এদিন সাধুকেই তারা জালে জড়ানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়। পরে সাধুর মোবাইল থেকে সেই কলে নম্বরে ঘুরিয়ে একাধিকবার ফোন করা হলেও সেই ফোন আর রিসিভ করেনি প্রতারকরা।