দুবাই থেকে তেল আভিভগামী বিমানে মাঝ আকাশে চরম আতঙ্ক। বুধবার সকালে উড়ানের মাঝপথেই পরপর দুটি বিপদ সংকেত পাঠায় বিমানটি। সূত্রের দাবি, বিমানটি হাইজ্যাক করা হয়েছে এবং তা সৌদি আরবে অবতরণ করেছে। যদিও ইজরায়েল...
দুবাই থেকে তেল আভিভগামী বিমানে মাঝ আকাশে চরম আতঙ্ক। বুধবার সকালে উড়ানের মাঝপথেই পরপর দুটি বিপদ সংকেত পাঠায় বিমানটি। সূত্রের দাবি, বিমানটি হাইজ্যাক করা হয়েছে এবং তা সৌদি আরবে অবতরণ করেছে। যদিও ইজরায়েল সরকার হাইজ্যাকের দাবি উড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসে ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।
জানা গিয়েছে, ফ্লাইট নম্বর FZ1073, বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ বিমানটি এদিন সকাল ৭টা ৫ মিনিটে ১৭০ থেকে ১৮০ জন যাত্রী নিয়ে দুবাই থেকে তেল আভিভের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেয়। উড়ানের প্রায় দেড় ঘণ্টা পর আচমকা গতিপথ পরিবর্তন করে বিমানটি।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, প্রথমে বিমান থেকে ‘৭৭০০ স্কোয়াক কোড’ পাঠানো হয়, যা সাধারণ জরুরি অবস্থার আন্তর্জাতিক সংকেত। এর কয়েক সেকেন্ড পরই পাঠানো হয় ‘৭৫০০ ট্রান্সপন্ডার কোড’, যা সাধারণত বিমান হাইজ্যাক বা বেআইনি হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা হয়। এরপরই বিমানটি দ্রুত উচ্চতা কমিয়ে প্রায় ১৫ হাজার ফুটে নেমে আসে এবং জর্ডনের আকাশসীমা থেকে ইউ-টার্ন নিয়ে সৌদি আরবের দিকে উড়তে থাকে। কিছুক্ষণের জন্য রাডার থেকেও উধাও হয়ে যায় বিমানটি। পরে সৌদির তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে।
বিপদ সংকেত পেতেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় ইজরায়েলে। খবর পেয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজরায়েল কাটজ। বন্ধ করে দেওয়া হয় ইজরায়েলের আকাশসীমা। সঙ্গে সঙ্গে দুটি যুদ্ধবিমানকে আকাশে পাঠায় ইজরায়েলি এয়ারফোর্স। আইডিএফ প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামিরও শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এটি হাইজ্যাকের ঘটনা নয় এবং সমস্ত যাত্রী সুরক্ষিত রয়েছেন।
এমতাবস্থায় প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কেন দুটি বিপদ সংকেত? ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমের দাবি, ককপিটের ভিতরেই দুই পাইলটের মধ্যে তীব্র বাক-বিতণ্ডা এবং হাতাহাতি থেকেই এই বিপত্তি। এক পাইলটই আতঙ্কে জরুরি কোড প্রেস করে দেন বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। যদিও ফ্লাই দুবাই বা সৌদি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে মাঝ আকাশে ঠিক কী ঘটেছিল।