৫ আগস্টের পর থেকেই বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে এসে আশ্রয় নিয়েছেন সেদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বারংবার ভারতের কাছে শেখ হাসিনার প্রত্যার্পণের আবেদন জানিয়েছে অন্তর্বর্তী ইউনূস প্রশাসন। কিন্তু ন...
৫ আগস্টের পর থেকেই বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে এসে আশ্রয় নিয়েছেন সেদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বারংবার ভারতের কাছে শেখ হাসিনার প্রত্যার্পণের আবেদন জানিয়েছে অন্তর্বর্তী ইউনূস প্রশাসন। কিন্তু নয়াদিল্লি, ঢাকার সেই আবেদনে কর্ণপাত না করায় এবার শেখ হাসিনা এবং তাঁর পরিবারকে প্যাচে ফেলতে প্রাক্তন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিল আদালত। আদালতের এই রায়ের পিছনেও জামাত এবং ইউনূস সরকারের কলকাঠি রয়েছে বলে মনে করছে সেদেশের ওয়াকিবহাল মহল।
বাংলাদেশ সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর শেখ হাসিনা তাঁর ছেলে জয়, মেয়ে পুতুল এবং বোন রেহানার সম্পত্ত বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন আদালত। বাজেয়াপ্ত সম্পত্তিগুলোর মধ্যে আছে ঢাকার ধানমন্ডিতে ১৬ কাঠা জমির উপর তৈরি শেখ হাসিনার বাড়ি সুধা সদন, হাসিনার ছেলে সজিব আহমেদ জয়ের ফ্ল্যাট, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, ছোট বোন শেখ রেহানা সিদ্দিক, রেহানার দুই সন্তান মুজিব সিদ্দিক এবং টিউলিপ সিদ্দিকের জমি ও ফ্ল্যাট। সম্পত্তির মোট মূল্য ৮ কোটি ৮৫ লাখ ২৫ হাজার ৩২০ টাকা। মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর আদালতের সিনিয়র বিচারক জাকির হোসেন গালিবের এজলাসে এমন তথ্য জানান দুর্নীতি দমন কমিশনের জনসংযোগ আধিকারিক আকতারুল ইসলাম।
টিউলিপ সিদ্দিকের গুলশানের ফ্ল্যাটের বাজার মূল্য প্রায় ৪৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা। জয় ও পুতুলের নামে ধানমন্ডিতে থাকা ১৬ কাঠা জমি-সহ সুধা সদনের বাড়ির মূল্য ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা। হাসিনার বোন রেহেনা সিদ্দিকের নামে ঢাকার অদূরে গাজীপুরে ৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা মূল্যে সাড়ে ৮ কাটা জমি রয়েছে। গাজীপুরে আরেক জায়গায় তিন লাখ টাকা মূল্যের জমিও রয়েছে তাঁর। এছাড়া ঢাকার প্রাণকেন্দ্র সেগুন বাগিচায় ১৮ লাখ টাকা মূল্যের ফ্ল্যাট রয়েছে। মুজিব সিদ্দিকের নামে গুলশানে থাকা ছয়টি ফ্ল্যাট ক্রোক করা হয়েছে। যার বাজার মূল্য ৪ কোটি ৮২ লাখ ১০ হাজার টাকা।
এছাড়াও শেখ হাসিনার ১৭টি ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সহ তাঁর পরিবারের ১২৪ টি অ্যাকাউন্টও বাজেয়াপ্ত করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন আদালত। উল্লেখ্য এর আগে শেখ মুজিবুর রহমানের ৩২ নম্বর ধানমণ্ডির বাড়ি ভেঙে গুড়িয়ে দেয় উত্তেজিত জনতা। ভাঙচুর চালানো হয় শেখ হাসিনার বাসভবন সুধা ভবনেও। এরপর শেখ হাসিনার পরিবারের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করল বাংলাদেশের আদালত। ফলে বাংলাদেশে আর প্রায় কিছুই রইল না শেখ হাসিনার। তবে বিচারের পর নিজেকে নির্দোষ প্রমাণিত করতে পারলে অবশ্য আইন মতো ক্রোক করা সম্পত্তি ফিরে পাবার কথা শেখ হাসিনার পরিবারের। কিন্তু ইউনূস জামানায় সেটা সম্ভব কিনা উঠছে সেই প্রশ্ন।