বুধবার সকাল। দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাই এফজেড ১০৭৩ তখন ৩৪ হাজার ফুট উপরে। ১৭৪ জন যাত্রী নিয়ে উড়ছে বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স। তার মধ্যেই ককপিটে আচমকা হামলা। অভিযোগ, ওমানের সহ-পাইলট ছুরি নিয়ে ঝাঁপিয...
বুধবার সকাল। দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাই এফজেড ১০৭৩ তখন ৩৪ হাজার ফুট উপরে। ১৭৪ জন যাত্রী নিয়ে উড়ছে বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স। তার মধ্যেই ককপিটে আচমকা হামলা। অভিযোগ, ওমানের সহ-পাইলট ছুরি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের উপর। মাথায়, হাতে একের পর এক কোপ। মুহূর্তে রক্তে ভেসে যায় ককপিট। এর মধ্যেই বিমানকে নিচে নামিয়ে ক্র্যাশ করানোর চেষ্টাও করেন অভিযুক্ত। ট্র্যাকিং ডেটা বলছে, ৩০ সেকেন্ডে ১৪,৩০০ ফুট নেমে গিয়েছিল বিমানটি।
কিন্তু হাল ছাড়েননি স্মিত। রক্তাক্ত অবস্থাতেই কোনও মতে ককপিটের লকড দরজা খুলে দিয়েছিলেন। চিৎকার শুনে ছুটে এসেছিলেন ক্রু ও যাত্রীরা। তাঁরাই হামলাকারীকে ধরে ফেলেন। বিমানে থাকা দন্ত চিকিৎসক শোতা মোসায়েভ পরে জানান, পাইলটের শরীরে একাধিক গভীর ক্ষত, প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে।
ভাগ্য়ক্রমে সেই মুহুর্তে যাত্রী হিসেবে ওই বিমানে ছিলেন ফ্লাইদুবাইয়েরই দুজন অফ-ডিউটি পাইলট। তাঁরাই তড়িঘড়ি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিমানটিকে নামিয়ে আনেন সৌদি আরবের তাবুকের প্রিন্স সুলতান বিমানবন্দরে। বিমান অবতরণের পর সৌদি পুলিস সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতার করে অভিযুক্ত সহ-পাইলটকে।
এখন কেমন আছেন স্মিত?
আপাতত তাবুকের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্মিত। অস্ত্রোপচার হয়েছে। ভারতীয় দূতাবাস এক্স-এ জানিয়েছে, তাঁর চিকিৎসার সব ব্যবস্থা করা হয়েছে। পূর্ণ হেলথ বুলেটিন এখনও আসেনি, তবে অবস্থা স্থিতিশীল। পরিবার তাবুকে পৌঁছেছে, দূতাবাস সর্বক্ষণ যোগাযোগ রাখছে। অন্য়দিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও স্মিতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন, প্রশংসা করেছেন তাঁর সাহসের। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুও কুর্নিশ জানিয়েছেন তাঁকে। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু স্মিতকে ‘ট্রু হিরো’ বলেছেন।