ফের মুখোমুখি আমেরিকা ও ইরান। রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভার ফাঁকেই নিউ ইয়র্কে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করল তেহরান। বৈঠককে 'ইতিবাচক' বলে বর্ণনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।গত ফেব্রুয...
ফের মুখোমুখি আমেরিকা ও ইরান। রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভার ফাঁকেই নিউ ইয়র্কে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করল তেহরান। বৈঠককে 'ইতিবাচক' বলে বর্ণনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গত ফেব্রুয়ারি থেকে সংঘাতে জড়িয়েছে দুই দেশ। যার জেরে উত্তপ্ত গোটা পশ্চিম এশিয়া। হরমুজ প্রণালী-সহ গুরুত্বপূর্ণ জলপথে জ্বালানি ও পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এই আবহে দুই দেশের আলোচনা আশার আলো দেখাচ্ছে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টা বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে তিনি নিজে না থাকলেও আমেরিকার হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন তাঁর বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। ইরানের তরফে ছিলেন বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
বৈঠক নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য, 'একটি চুক্তি করা ইরানের জন্যই সুবিধাজনক। আমি ভাবতে পারি না কেন ওরা চুক্তি করতে চাইবে না।' একইসঙ্গে হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। সাফ জানিয়েছেন, চুক্তিতে রাজি না হলে ইরান ধ্বংস হয়ে যাবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, বৈঠকে হরমুজ প্রণালী খোলা নিয়ে নিজেদের শর্ত ফের তুলে ধরেছে তেহরান। অবিলম্বে নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, বাজেয়াপ্ত সম্পদ ফেরত এবং সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা তোলার দাবি জানিয়েছেন আরাঘচি। উইটকফের প্রতিক্রিয়া, 'আলোচনা ভাল হয়েছে।'
রাষ্ট্রসংঘে ভাষণেও ইরান প্রসঙ্গ তোলেন ট্রাম্প। বলেন, তেহরানের সামনে দুটি পথ খোলা - চুক্তি করে পুনর্গঠনের পথে হাঁটা, অথবা নতুন করে মার্কিন সামরিক অভিযানের মুখোমুখি হওয়া। ট্রাম্পের মূল শর্ত ইরানের পরমাণু কর্মসূচি। তিনি চান, যে কোনও চুক্তির কেন্দ্রে থাকবে তেহরানের পরমাণু অস্ত্র অর্জন বন্ধ করা। যদিও ইরানের দাবি, তাদের পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। পরমাণু কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালী নিয়ে মতবিরোধেই অতীতে সব আলোচনা ভেস্তে গিয়েছে। নিউ ইয়র্কের এই তিন ঘণ্টার বৈঠক সমাধানের পথ খোলে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে বিশ্ব।