২০৩৫ সালের মধ্যে বাংলায় এক লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগ। বৃহস্পতিবার নিউটাউনে ‘আদানি আরোগ্য মন্দির’-এর শিলান্যাস মঞ্চ থেকে বড় ঘোষণা করলেন আদানি গোষ্ঠীর প্রধান গৌতম আদানি। এদিন সকালে কালীঘাট মন্দিরে পুজো ...
২০৩৫ সালের মধ্যে বাংলায় এক লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগ। বৃহস্পতিবার নিউটাউনে ‘আদানি আরোগ্য মন্দির’-এর শিলান্যাস মঞ্চ থেকে বড় ঘোষণা করলেন আদানি গোষ্ঠীর প্রধান গৌতম আদানি। এদিন সকালে কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিয়ে নিউটাউনের অনুষ্ঠানে পৌঁছন তিনি। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী প্রীতি আদানি ও পুত্র করণ আদানি। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
বক্তব্য শুরু করেন বাংলাতেই - 'নমস্কার, কলকাতাকে আমার প্রণাম, বাংলার মাটিকে আমার প্রণাম।' তারপরই আবেগঘন ঘোষণা করেন তিনি। বলেন, 'গুজরাতে মুন্দ্রা বন্দর ছিল আমার প্রথম কর্মভূমি। এবার বাংলা আমার দ্বিতীয় কর্মভূমি। এখানে অনেক বড় সুযোগ অপেক্ষা করছে। পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে দাঁড়িয়ে থাকাটা একটা গৌরবের বিষয়।' একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, 'মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বাংলা এগোবে। তাঁর হাত ধরে বাংলায় অনেক সম্ভাবনা গড়ে উঠবে।'
কী থাকছে আরোগ্য মন্দিরে?
২০০০ শয্যার এই অত্যাধুনিক হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজ তৈরিতে প্রাথমিক বিনিয়োগ ৪০০০ কোটি টাকা। গৌতম আদানি জানান, এটি একটি অলাভজনক প্রকল্প। বিশ্বমানের এই হাসপাতালে ১০০০ শয্যা অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল রোগীদের জন্য বরাদ্দ থাকবে, যাঁরা রাজ্য ও কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিমার মাধ্যমে চিকিৎসা পাবেন। সঙ্গে থাকবে বিশ্বমানের মেডিক্যাল কলেজ ও গবেষণাকেন্দ্র। সরাসরি অন্তত ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু এটিকে বিচ্ছিন্ন হাসপাতাল নয়, 'মেডিসিটি' বলে বর্ণনা করেছেন। রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ অগ্রবাল জানিয়েছেন, আগামী তিন বছরের মধ্যেই প্রকল্প শেষ হবে।
শুধু স্বাস্থ্য নয়, বাংলার ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বের কথা মনে করিয়ে আদানি বলেন, বাংলা একদিকে উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার, অন্যদিকে সমুদ্রপথে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে সংযোগের মূল রাস্তা। তাই বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বণ্টন, সড়ক, সেতু, বন্দর, পণ্য পরিবহণ, সিমেন্ট কারখানা, হাইপারস্কেল ডেটা সেন্টার-সহ পরিকাঠামোর বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করবে আদানি গোষ্ঠী। এদিন মহাকরণ এবং কুমারটুলি ঘাটের হেরিটেজ কাঠামো পুনরুদ্ধারের দায়িত্বও মউ স্বাক্ষর করে আদানি গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়া হয়। দুর্গোৎসবকে বিশ্বের মঞ্চে পৌঁছে দিতেও সাহায্য করবে আদানি গোষ্ঠী, জানান মুখ্যমন্ত্রী।