প্রয়াত বাংলার প্রাক্তন মুখ্য়মন্ত্রী তথা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। শেষবার পাম অ্যাভিনিউয়ের বাড়ি থেকে বেরল লাল পতাকায় মোড়া মরদেহ। আজ, শুক্রবার সকালে পিস ওয়ার্ল্ড থেকে বিধানসভায় নিয়ে আসা হয় বুদ্ধদেব বাবুর দ...
প্রয়াত বাংলার প্রাক্তন মুখ্য়মন্ত্রী তথা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। শেষবার পাম অ্যাভিনিউয়ের বাড়ি থেকে বেরল লাল পতাকায় মোড়া মরদেহ। আজ, শুক্রবার সকালে পিস ওয়ার্ল্ড থেকে বিধানসভায় নিয়ে আসা হয় বুদ্ধদেব বাবুর দেহ। এরপর শেষবারের মতো আলিমুদ্দিন ও দীনেশ মজুমদার ভবন হয়ে তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় এনআরএসে। তাঁর মৃতদেহ এনআরএস হাসপাতালেই দাহ করা হয়। প্রিয় নেতাকে শেষবারের মত চোখের দেখা দেখতে রাস্তায় নেমেছে কাতারে কাতারে জনগনের মানুষ।
বেঙ্গালুরু থেকে আনানো লাল জারবেরা ফুল আর রক্ত পতাকা দিয়ে সাজানো হয়েছিল বুদ্ধবাবুর শববাহী গাড়ি। সেখানেই বুদ্ধবাবুকে শেষ শ্রদ্ধা জানান অনেকে। যাত্রা শুরুর আগেই সিপিএম নেতাদের দাবি ছিল, গান স্যালুট নয়, মানুষের স্যালুটেই তিনি এগিয়ে যাবেন। সেই রীতি মেনেই এদিন সকাল ১০টা ৩৯ মিনিটে পিস ওয়ার্ল্ড ছেড়ে বিধানসভার উদ্দেশে রওনা হয় কনভয়। শববাহী গাড়ির সামনের আসনে ছিলেন সুজন চক্রবর্তী। পার্ক সার্কাস, পার্ক স্ট্রিট হয়ে শোক মিছিল পৌঁছয় বিধানসভায়।
এদিন সকাল ১১টায় বিধানসভায় গিয়ে পৌঁছয় শববাহী। রাজ্য বিধানসভায় বুদ্ধবাবুকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে হাজির ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারীর মতো বর্তমান নেতারা। ছিলেন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ বাকি নেতা এবং মন্ত্রীরা। ততক্ষণে বুদ্ধবাবুর অপেক্ষায় ভিড় বাড়তে শুরু করছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে। তাঁর দেহ আসতে আবেগে ভাসলেন তাঁর অগণিত ভক্ত, সমর্থকরা।
এরপর সাড়ে ৩টের সময় প্রয়াত বুদ্ধবাবুকে নিয়ে রওনা দেওয়া হয় সিপিএমের যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআই-এর রাজ্য দফতর দীনেশ মজুমদার ভবনে। জনস্রোতে ভবনের সামনে কিছু সময় দাঁড়িয়ে ফের ধীর গতিতে চলতে শুরু করে শববাহী। কাতারে কাতারে মানুষ পা মেলান শেষযাত্রায়। এমনকি রাস্তার দু ধারে মানুষ শেষবারের মত বুদ্ধাবাবুকে দেখতে অপেক্ষা করছিলেন। বিকেল ৫টায় বুদ্ধদেবের দেহ নিয়ে শববাহী শকট পৌঁছয় এনআরএস হাসপাতালে। সেখানেই তাঁর দেহ দান করা হয়। আর সেখানেই সকলের চোখকে ফাঁকি দিয়ে শেষ হল বুদ্ধদেব বাবুর অন্তিমযাত্রা।