প্রাক-পুজো পাস বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা তোলার অভিযোগে যখন ইন্দ্রনীল সেনকে নিয়ে তদন্ত তুঙ্গে, তখনই এই মামলায় বড় মোড়। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির একটি এক্স পোস্টে সরাসরি নাম উঠে এল প্রাক্তন মু...
প্রাক-পুজো পাস বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা তোলার অভিযোগে যখন ইন্দ্রনীল সেনকে নিয়ে তদন্ত তুঙ্গে, তখনই এই মামলায় বড় মোড়। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির একটি এক্স পোস্টে সরাসরি নাম উঠে এল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। আর তারপর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তুমুল চাপানউতোর।
ইডি কী বলছে?
বৃহস্পতিবার ইডি তাদের অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডেলে জানায়, ২০২২ সাল থেকে টানা তিন বছর ধরে পুজো পাসের নামে বিপুল টাকা তোলা হয়েছে। সেই টাকা ব্যক্তিগত খাতে খরচ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ৮৫ কোটি টাকার বেশি সরকারি টেন্ডার নিয়ম না মেনে ইন্দ্রনীলের ঘনিষ্ঠদের সংস্থাকে পাইয়ে দেওয়া হয়েছিল।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি হল, ইন্দ্রনীলের সংস্থা ‘অক্টেভ রেকর্ডস’-এর অ্যাকাউন্টে ৩ কোটি ৮০ লক্ষ টাকার বেশি নগদ জমা পড়ে। আর সেই অ্যাকাউন্ট থেকেই ৩০ লক্ষ টাকা গিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে। ইডির এই দাবি ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল।
দিলীপের নিশানায় মমতা -
এই খবর সামনে আসতেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে তীব্র আক্রমণ করেছেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, এতদিন তিনি নিজে সততার মুখোশ পরে ছিলেন, আর দলের বাকিদের বিপদে ফেলেছেন। তাঁর মন্তব্য, “নেতা-মন্ত্রীরা জেলে যাচ্ছে, কিন্তু ওনার গায়ে কালি লাগছে না। বর্ষাতি পরে স্নান করার মতো করে উনি রাজনীতি করেছেন। এবার আসল সত্যি বেরোচ্ছে। ওনার জন্যই আজ দলটা ডুবতে বসেছে।”
তৃণমূলের পাল্টা যুক্তি -
যদিও এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিচ্ছে তৃণমূল। কালীঘাটের বিধায়ক কুণাল ঘোষের সাফাই, এটি কোনও দুর্নীতির টাকা নয়। তাঁর দাবি, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একজন লেখিকা, গীতিকার, সুরকার। ইন্দ্রনীল সেনের সংস্থার সঙ্গে তাঁর গানের স্বত্ব নিয়ে বৈধ চুক্তি ছিল। সেই চুক্তি মেনেই তিনি সাম্মানিক পেয়েছেন। এটাকে দুর্নীতির রঙ দেওয়া হচ্ছে।”