বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে ‘খাম’ প্রতীক নিয়ে আইএসএফের করা মামলা খারিজ করে দিল কলকাতা হাই কোর্ট। বুধবার বিচারপতি কৃষ্ণা রাও-এর বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাওয়ায় এই মুহূর্তে আদ...
বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে ‘খাম’ প্রতীক নিয়ে আইএসএফের করা মামলা খারিজ করে দিল কলকাতা হাই কোর্ট। বুধবার বিচারপতি কৃষ্ণা রাও-এর বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাওয়ায় এই মুহূর্তে আদালত হস্তক্ষেপ করবে না।
উল্লেখ্য, ২০২১ এবং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ‘খাম’ চিহ্ন নিয়েই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল নওশাদ সিদ্দিকীর দল ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট। কিন্তু আগামী ৬ অক্টোবর হতে চলা নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনে সেই পরিচিত প্রতীক আর পাচ্ছে না তারা। নির্বাচন কমিশন আইএসএফকে ‘আলমারি’ প্রতীক বরাদ্দ করেছে, আর ‘খাম’ প্রতীকটি দেওয়া হয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসকে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই গত ২১ সেপ্টেম্বর হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় আইএসএফ।
এর আগে ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী কমিশনকে চিঠি দিয়ে পুরনো প্রতীক ফিরে পাওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু কোনও উত্তর না পেয়ে শেষ পর্যন্ত আদালতে যায় দল।
সোমবার এই মামলার শুনানিতে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কড়া প্রশ্ন তুলেছিলেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। তিনি জানতে চান, কোন আইনে আইএসএফের ব্যবহৃত প্রতীক অন্য দলকে দেওয়া হল। বিচারপতি বলেন, “আদালত কর্তৃপক্ষের কাজে উদ্বিগ্ন। কর্তৃপক্ষ এমনভাবে কাজ করুন, যাতে পরে তাঁদের প্রশ্নের মুখে পড়তে না হয়।”
তিনি আরও মন্তব্য করেন, “আগের প্রতীক পাওয়া আইএসএফের অধিকার নাও হতে পারে, কিন্তু তা চাওয়া স্বাভাবিক। আপনারা অন্য দলকে কী করে সেই প্রতীক দিয়ে দিলেন?”
জবাবে কমিশনের আইনজীবী জিষ্ণু চৌধুরী আদালতে যুক্তি দেন, সাধারণ নির্বাচন ও উপনির্বাচন দুটি আলাদা প্রক্রিয়া। একটি নির্বাচনের ফল প্রকাশের সঙ্গেই তার প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যায়। ফ্রি সিম্বল দেওয়ার ক্ষেত্রে কমিশনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়, প্রতীক কারও সম্পত্তি নয়।
তবে এই যুক্তিতে সন্তুষ্ট হননি বিচারপতি। তিনি পাল্টা প্রশ্ন তোলেন, “গণতান্ত্রিক তৃণমূলের আবেদনে প্রতীক দিয়েছেন বুঝলাম, কিন্তু আইএসএফ আবেদন করেছে এবং তা বিবেচনা করা হয়েছে, সেই নথি কোথায়? আপনাদের বক্তব্য সন্তোষজনক নয়।”
সোমবার রায়দান স্থগিত রাখার পর বুধবার মামলাটি খারিজ করে দেয় হাই কোর্ট।