অবশেষে প্রতীক্ষার অবসান। ডুয়ার্সের বক্সা টাইগার রিজার্ভে ফের ফিরল রয়্যাল বেঙ্গলের আধিপত্য। বিহারের বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভ থেকে নিয়ে আসা প্রায় তিন বছর বয়সী একটি বাঘিনীকে বৃহস্পতিবার গভীর জঙ্গলে ছ...
অবশেষে প্রতীক্ষার অবসান। ডুয়ার্সের বক্সা টাইগার রিজার্ভে ফের ফিরল রয়্যাল বেঙ্গলের আধিপত্য। বিহারের বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভ থেকে নিয়ে আসা প্রায় তিন বছর বয়সী একটি বাঘিনীকে বৃহস্পতিবার গভীর জঙ্গলে ছাড়া হয় তাকে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই ২ অক্টোবর বক্সায় বাঘ ছাড়ার ঘোষণা করেছিলেন, সেই পরিকল্পনা অনুযায়ীই এদিন বন দফতর এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ করেন।
বন দফতর সূত্রে খবর, বক্সা একসময় বাঘের স্বর্গরাজ্য ছিল। আশির দশকে বন দফতরের ট্র্যাপ ক্যামেরায় ১০ থেকে ১২টি বাঘের অস্তিত্ব মিলেছিল। কিন্তু তারপর ধীরে ধীরে বাঘ শূন্য হয়ে পড়ে বক্সা। ২০২৩-২৪ সালের শেষের দিকে ফের দুটি বাঘের পায়ের ছাপ মেলায় নতুন করে আশা জাগে। এরপরই কেন্দ্রীয় বন মন্ত্রকের কাছে বাঘ পুনর্বাসনের প্রস্তাব পাঠায় রাজ্য। অনুমোদন মিলতেই বিহারের জঙ্গল থেকে এই বাঘিনীটিকে বেছে নেওয়া হয়। তাকে ধরা ছিল রীতিমতো এক অপারেশন। বনকর্মীরা দিনের পর দিন নজরদারি চালিয়ে শেষে ঘুমপাড়ানি গুলি ছুড়ে তাকে বাগে আনেন।
গত পরশু বায়ুসেনার বিশেষ বিমানে করে বাঘিনীকে বিহার থেকে প্রথমে হাসিমারা এয়ারবেসে আনা হয়। সেখান থেকে সড়কপথে গ্রিন করিডর করে বিশেষ খাঁচাবন্দি কনভয়ে নিয়ে যাওয়া হয় বক্সা টাইগার রিজার্ভে। নতুন জঙ্গলের আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে তাকে কয়েকদিন বিশেষ এনক্লোজারে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। সম্পূর্ণ সুস্থ থাকায় মুখ্যমন্ত্রীর সবুজ সংকেত পেতেই তাকে মুক্ত করা হয় জঙ্গলে।
আপাতত ২৫ বর্গমাইল এলাকা জুড়ে হবে তার বিচরণক্ষেত্র। তার গলায় বসানো হয়েছে স্যাটেলাইট রেডিও কলার, যাতে তার গতিবিধির উপর নজর রাখা যায়। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বনমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব এবং রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজ ওঁরাও। বন দফতরের আশা, এই বাঘিনীর হাত ধরেই বক্সা আবার তার হারানো গৌরব ফিরে পাবে।