ডিভিসি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে ফের চিঠি দিলেন মুখ্য মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগে কেন্দ্রীয় জল শক্তি মন্ত্রক রাজ্যের দেওয়া চিঠির উত্তরে বলেছিল রাজ্যকে জানিয়ে জল ছাড়া হয়েছিল। কিন্তু এবার মমতা...
ডিভিসি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে ফের চিঠি দিলেন মুখ্য মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগে কেন্দ্রীয় জল শক্তি মন্ত্রক রাজ্যের দেওয়া চিঠির উত্তরে বলেছিল রাজ্যকে জানিয়ে জল ছাড়া হয়েছিল। কিন্তু এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাল্টা চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিলেন এরকম কিছু জানানো হয়নি। তাঁর দাবি অনেক সময় রাজ্যের সম্মতি ছাড়াই জল ছাড়া হয়। প্রতিবাদে ডিভিসির কমিটি থেকে রাজ্যের প্রতিনিধি সরিয়ে নেওয়ার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, “জল মন্ত্রকের চিঠির উত্তরে আমার এই চিঠি। আপনার মন্ত্রী দাবি করেছেন, দামোদর ভ্যালি জলাধার নিয়ন্ত্রণ কমিটির মাধ্যমে মাইথন এবং পাঞ্চেত বাঁধ পরিচালিত হয়। যেখানে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রতিনিধিও রয়েছেন। আমি তা মানি না। রাজ্যের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই কেন্দ্রীয় জল কমিশন এবং জল শক্তি মন্ত্রকই এ ক্ষেত্রে সমস্ত সিদ্ধান্তগুলি নিয়ে থাকে। কখনও কখনও রাজ্যকে না জানিয়েই জল ছাড়া হয়। রাজ্যের অনুরোধও শোনা হয় না। শুধু তা-ই নয়, এ বার মাত্র সাড়ে তিন ঘণ্টার নোটিসে ডিভিসি জল ছেড়েছে। রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের জন্য ওই সময় পর্যাপ্ত ছিল না।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ডিভিসির চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনার সময় রাজ্য সরকার আড়াই লক্ষ কিউসেক জল ছাড়ার অনুমতি দেয় নি। কিন্তু সেই কথা শোনা হয়নি। আড়াই লক্ষ কিউসেক জল ছাড়ার প্রয়োজন ছিল না। তা না হলে দক্ষিণবঙ্গের বন্যা পরিস্থিতি এত ভয়াবহ আকার ধারণ করত না। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে টানা কয়েকদিন বৃষ্টি হয় দক্ষিণবঙ্গে। তার পরই জল ছাড়ে ডিভিসি। জলমগ্ন হাওড়ার আমতা, উদয়নারায়ণপুর, হুগলির খানাকূল, পূর্ব মেদিনীপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা, পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল। বিপর্যস্ত জনজীবন। নিজেই প্লাবন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘ম্যান মেড বন্যা’ বলে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি।