নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের জয় সংগঠন ও আবেগের মেলবন্ধন। নিজের ঘরের মাঠে শুভেন্দু অধিকারী যে এখনও অপ্রতিদ্বন্দ্বী, এই বিপুল মার্জিন তা স্পষ্ট করে দিল। আর কংগ্রেস ও বামপন্থীদের ভোটপ্রাপ্তি...
নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের জয় সংগঠন ও আবেগের মেলবন্ধন। নিজের ঘরের মাঠে শুভেন্দু অধিকারী যে এখনও অপ্রতিদ্বন্দ্বী, এই বিপুল মার্জিন তা স্পষ্ট করে দিল। আর কংগ্রেস ও বামপন্থীদের ভোটপ্রাপ্তির পরিসংখ্যান স্পষ্ট করল যে, এই কেন্দ্রে শাসক ও বিরোধী প্রধান মেরুকরণের রাজনীতিতে বিজেপি নিজেদের ভোটব্যাঙ্ক অক্ষত রাখতে পেরেছে। শুভেন্দুর রেকর্ড ব্রেক করে , ১ লাখ ২২ হাজার ভোটে জয়ী হাসিরানি রথ। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেসের মিলন প্রধানকে ১,২২,৭৫৩ ভোটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। রাউন্ডের পর রাউন্ড বেড়েছে ব্যবধান। নন্দীগ্রামের ফলাফল রাজ্যের সমকালীন রাজনীতিতে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় যোগ করল। হাসিরানির ঝুলিতে প্রাপ্ত ভোট ১,৬৪,৪২৭।
পাশাপাশি নন্দীগ্রামের জয়ে হাসিরানি রথকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি লেখেন, ঐতিহাসিক ও অভূতপূর্ব। নন্দীগ্রামের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়।
এই ঐতিহাসিক ও রেকর্ড-গড়া জনমতের জন্য নন্দীগ্রামের উদার ও মহানুভব জনগণের প্রতি আমি গভীর কৃতজ্ঞতা ও বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।
২০২১ সালের হাই-প্রোফাইল বিধানসভা নির্বাচন থেকেই নন্দীগ্রাম কেন্দ্রটি রাজ্যের রাজনীতির ভরকেন্দ্র হয়ে উঠেছে। এবার উপনির্বাচনে বিপুল মার্জিনে বিজেপির জয় কেবল একটি আসন ধরে রাখাই নয়, বরং শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক জমি এবং মেদিনীপুরের মাটিতে পদ্ম শিবিরের আধিপত্যকে আরও একবার প্রতিষ্ঠা করল।
গেরুয়া ঝড়ে বিজেপির নেতা কর্মী সমর্থকদের উল্লাস ও উচ্ছাস। গেরুয়া আবির উড়িয়ে একে অপরকে মিষ্টি খাইয়ে উদযাপন করল জয়ের। এই জয় নন্দীগ্রামবাসীর জয়। এই জয় তাদের জন্য উৎসর্গ করলাম। শিক্ষিত বেকার যুবক যুবতীদের কর্মসংস্থান মূল লক্ষ্য, জানালেন হাসিরানি রথ। তিনি আরও বলেন, মমতার এখানে নামও নেই নিশানও নেই।
বিজয়ী প্রার্থী আরও বলেন, আমাদের সরকার গণতান্ত্রিক সরকার। নন্দীগ্রাম অত্যাচারিত, অবাঞ্ছিত , প্রতারিত ছিল। সেই নন্দীগ্রামে মুখ্যমন্ত্রী দেখিয়ে দিলেন গণতান্ত্রিক উপায়ে যদি নির্বাচন হয় তাহলে সুন্দরভাবে করা যায়। কোনও রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম হয়নি। বোমা বন্দুকের আওয়াজও পাওয়া যায়নি।
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ সরকারের উন্নয়নের পক্ষে রায় দিয়েছেন। সংখ্যালঘু ভোটারদের একাংশও বিজেপির পাশে দাঁড়িয়েছে। বিভাজনের রাজনীতি নয়, সরকার উন্নয়নের কান্ডারী তা স্পষ্ট এই জয়ে।