ছিল তিল, হয়ে গেল তাল। এ বাংলায় এসব কোনও বড় ব্যাপার নয়। এমনকি প্রাণের পর প্রাণও নয়। আপনার কাছে টাকা আছে তো সব মুশকিল আসান হতে সময় লাগে না। যেমন হয়েছে কল্যাণীতে। একটা ছোট্ট দোকান ছিল, গুমটি ঘরেই চলত আতস...
ছিল তিল, হয়ে গেল তাল। এ বাংলায় এসব কোনও বড় ব্যাপার নয়। এমনকি প্রাণের পর প্রাণও নয়। আপনার কাছে টাকা আছে তো সব মুশকিল আসান হতে সময় লাগে না। যেমন হয়েছে কল্যাণীতে। একটা ছোট্ট দোকান ছিল, গুমটি ঘরেই চলত আতস বাজি বিক্রি, সেখানে দোকানের অনুমতি থাকলেও ওই দোকানের আড়ালে ধীরে ধীরে গজিয়ে উঠেছিল প্রকান্ড বাজি কারখানা। আর তা পুলিশ জানত না! এমনটা কি আদতে সম্ভব!
কল্যাণীর রথতলায় বাজি কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনায় পুলিশ জানতে পেরেছে ওই কারখানার কোনও বৈধ অনুমতি ছিল না। যদিও বিস্ফোরনে আহত হয়েছেন ওই কারখানার মালিক খোকন বিশ্বাস। কিন্তু কোথায় সে! পুলিশ জানাচ্ছে। আপাতত সে নিখোঁজ। শুক্রবার দুপুরে কল্যাণীর রথতলায় বাজি কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৬ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, দোকানের আড়ালেই বাজি কারখানা চালাতেন খোকন। সেখানে পুরুষ-মহিলা মিলিয়ে ৮-১০ জন শ্রমিক কাজ করতেন। দুপুর দেড়টা নাগাদ, ঘটনার সময়েও পাঁচ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কয়েক বছর ধরেই রথতলায় আতসবাজির ব্যবসা করেন খোকন। আতসবাজির আড়ালে সেখানে শব্দবাজি বিক্রি করা হত। এর পর ধীরে ধীরে নিজেই বাজি বানাতে শুরু করেন খোকন। প্রাথমিক ভাবে মুর্শিদাবাদের রেজিনগরের দুই শ্রমিককে নিয়ে এসে কারখানার কাজ শুরু হয়। পরে স্থানীয় মহিলারাও কাজে যোগ দেন। আতসবাজি তৈরির পুরো দায়িত্বই ছিল চার মহিলা শ্রমিকের উপর। শব্দবাজি তৈরি করতেন মুর্শিদাবাদের দু’জন শ্রমিক। তবে সবটাই হত একটি ঘুপচি ঘরে। ঘটনার পর থেকে পলাতক খোকন। তাঁর খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।