রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরই শুভেন্দু অধিকারী বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, তৃণমূল জমানার দুর্নীতি নিয়ে তদন্ত হবে। এবং, সেই তদন্তভার দিয়েছিলেন মমতা-জমানায় কোণঠাসা আইপিএস জয়রামনকে। প্রসঙ্গত, ত...
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরই শুভেন্দু অধিকারী বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, তৃণমূল জমানার দুর্নীতি নিয়ে তদন্ত হবে। এবং, সেই তদন্তভার দিয়েছিলেন মমতা-জমানায় কোণঠাসা আইপিএস জয়রামনকে। প্রসঙ্গত, তৃণমূল আমলে এই আইপিএস যে-সাহসের পরিচয় দিয়েছিলেন, তাকে নজিরবিহীন বললেও কম বলা হয়। জেলার পুলিস কর্তা হয়ে তিনি জেলাশাসককে গ্রেফতার করেছিলেন। ওই জেলাশাসকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে এবং প্রাথমিক তদন্তের পর সেই অভিযোগের সারবত্তা পাওয়া যায়।
তারপর?
তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যথারীতি ওই আইপিএস-কে ডেকে ধমক দেন। প্রশ্ন করেন, নবান্নকে না জানিয়ে কী করে এই কাজ করলেন তিনি। জয়রামন উত্তর দেন, জানানোর কোনও প্রয়োজন বোধ করেননি তিনি। এবং, আইন মেনেই তিনি কাজ করেছেন।
তারপর যা হওয়ার তা-ই হয়েছে। দময়ন্তী সেনের মতো জয়রামনকেও একেবারে কোণঠাসা করে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
দীর্ঘদিন পর, বাংলায় ফের ‘পরিবর্তন’ হয় এবং শুভেন্দু অধিকারীর সরকার তাঁকে যথাযোগ্য মর্যাদা দেয়। তৃণমূল জমানার দুর্নীতির তথ্য-তালাশের দায়িত্ব তাঁর হাতেই তুলে দেওয়া হয়।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, তৃণমূল জমানায় রন্ধ্রে-রন্ধ্রে দুর্নীতি হয়েছিল ঠিকই। কিন্তু, যারা এই দু্র্নীতিতে যুক্ত ছিল, আদালতে তাদের দোষী সাব্যস্ত করতে না-পারলে বিজেপি সরকারের মুখ পুড়বে। ঘাসফুল শিবির দাবি করবে, প্রতিহিংসার কারণেই এই হেনস্থা। সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, গত জমানার দুর্নীতি খুঁজে বার করা ও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে যথাযথ ভাবে চার্জশিট তৈর করার জন্যই জয়রামনের মতো আইপিএস-কে দায়িত্ব দিয়েছেন তিনি।
এখানেই শেষ নয়। বিধানসভার অধিবেশন থেকে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী তাপস রায় একের-পর-এক সিএজি বা ক্যাগ রিপোর্ট পড়েছেন সম্প্রতি। ২০২১-এর পর সেই সব রিপোর্ট আর সামনে আনেনি তৃণমূল সরকার। প্রসঙ্গত, কোনও সরকারের আর্থিক অনিয়ম কিন্তু ধরা পড়ে এই ক্যাগ রিপোর্টেই। এবং, বিজেপি সরকার বিধানসভায় সেই রিপোর্ট প্রকাশ্যে এনেছে। মন্ত্রীরা সেই রিপোর্ট পড়ে শুনিয়েছেন। মমতা-জমানায় কীভাবে আর্থিক অনিয়ম হয়েছিল, তা দিনের আলোর মতো স্পষ্ট হয়ে গেছে।
রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, একদিকে জয়রামনের তদন্ত ও অন্যদিকে ক্যাগ রিপোর্টকে সামনে রেখেই তৃণমূল জমানার দুর্নীতিগ্রস্তদের জালে তুলবে বাংলার বিজেপি সরকার। যদিও, গত দু-মাসে অন্তত পক্ষে দু-ডজন তৃমমূল নেতাকে তোলাবাজি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে, তাঁরা আদতে তৃণমূলের মেজ-সেজ-ছোট নেতা। এবার ‘ধেড়ে ইঁদুর’দের পালা।