পুজোর প্রস্তুতির বৈঠক, মঞ্চে রাজনৈতিক মুখ! জেলা পুলিশের সমন্বয়সভা ঘিরে বিতর্ক পূর্ব বর্ধমানে। দুর্গাপুজো আর হাতে গোনা কয়েকদিন। উৎসবের মরশুমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা থেকে শুরু করে যান নিয়ন্...
পুজোর প্রস্তুতির বৈঠক, মঞ্চে রাজনৈতিক মুখ! জেলা পুলিশের সমন্বয়সভা ঘিরে বিতর্ক পূর্ব বর্ধমানে। দুর্গাপুজো আর হাতে গোনা কয়েকদিন। উৎসবের মরশুমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা থেকে শুরু করে যান নিয়ন্ত্রণ, ভিড় সামলানো এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, একাধিক বিষয়কে সামনে রেখে আগেভাগেই প্রস্তুতি শুরু করেছে পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ।
দুর্গাপুজো উপলক্ষে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে জেলা পুলিশের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছিল একটি সমন্বয়সভা। পুলিশ আধিকারিক, জনপ্রতিনিধি এবং জেলার বিভিন্ন দুর্গাপুজো কমিটির প্রতিনিধিদের নিয়ে এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল পুজোর দিনগুলিতে প্রশাসনিক সমন্বয় আরও মজবুত করা।
কিন্তু নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতির এই বৈঠকই এখন রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে। বিজেপির অভিযোগ, সরকারি উদ্যোগে আয়োজিত এই ধরনের সমন্বয়সভার মঞ্চে রাজনৈতিক দলের নেতার উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই। তাঁদের বক্তব্য, প্রশাসনিক বৈঠকে রাজনৈতিক পরিচয়ের ব্যক্তিদের মঞ্চে স্থান দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতার বিষয়টি স্পষ্ট থাকা প্রয়োজন। সরকারি কর্মসূচির মঞ্চে রাজনৈতিক পরিচয় থাকা ব্যক্তিরা কীভাবে জায়গা পেলেন, সেই প্রশ্নই তুলেছে বিজেপি নেতৃত্ব ও দলের বিধায়করা।
বিতর্ক আরও বাড়িয়েছে বর্ধমান দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক তথা রাজ্যের শিল্প প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্রের মামা মানস তিউয়ারির উপস্থিতি। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মী মানস তিউয়ারি অতীতে বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানা যায়। বিজেপির একাংশের অভিযোগ, মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র মন্ত্রী হওয়ার পর বিভিন্ন সরকারি এবং দলীয় কর্মসূচিতে মানস তিউয়ারিকে মঞ্চে দেখা যাচ্ছে।
যদিও এই বৈঠকের মূল বিষয় ছিল দুর্গাপুজোর নিরাপত্তা। পুজোর দিনগুলিতে শহর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় কীভাবে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে, কোথায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে, কীভাবে ভিড় সামলানো হবে এবং কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত কীভাবে মোকাবিলা করা হবে— সেই সমস্ত বিষয় নিয়েই প্রশাসনিক স্তরে আলোচনা হয়েছে। তবে বৈঠকের পর নিরাপত্তার প্রস্তুতির থেকেও বেশি করে সামনে এসেছে মঞ্চে কারা ছিলেন, সেই প্রশ্ন।
বিজেপির দাবি, উৎসবের আগে প্রশাসনের এমন গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয়সভায় রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখা জরুরি। অন্যদিকে প্রশাসনের কাছে পুজোর সময় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অর্থাৎ, দুর্গাপুজোর নিরাপত্তা নিয়ে বৈঠক হলেও, বৈঠকের মঞ্চ ঘিরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। এখন দেখার, পুজোর উৎসবের আবহে এই বিতর্ক কতটা প্রভাব ফেলে প্রশাসনিক প্রস্তুতিতে।