মধ্যমগ্রাম ট্রলিব্যাগকাণ্ডে সাজা ঘোষণা করল আদালত। খুনের ঘটনায় মা আরতি ঘোষ ও মেয়ে ফাল্গুনী ঘোষকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা শোনাল বারসত আদালত। পাশাপাশি এক লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে ৬ মাসের কা...
মধ্যমগ্রাম ট্রলিব্যাগকাণ্ডে সাজা ঘোষণা করল আদালত। খুনের ঘটনায় মা আরতি ঘোষ ও মেয়ে ফাল্গুনী ঘোষকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা শোনাল বারসত আদালত। পাশাপাশি এক লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে ৬ মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অপরাধে তাঁদের সাত বছরের জেল এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল প্রথম সাত বছর অর্থাৎ তথ্য প্রমাণ লোপাটের জন্য যে সাত বছরের জেল দেওয়া হয়েছে সেটা থাকতেই হবে। তারপর যাবজ্জীবনের শাস্তি শুরু হবে। ডিফেন্স লইয়ার তারক চন্দ্র দাস জানিয়েছেন এই বিচারের বিরুদ্ধে তিনি উচ্চ আদালতে যাবেন।
চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি মাসে সুমিতা ঘোষকে খুন করা হয়। অভিযোগ, প্রথমে ইট দিয়ে মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করা হয়। আর তাতেই মৃত্যু হয়। বাড়িতে থাকা একটি ছোট ট্রলি ব্যাগ এর মধ্যে দেহটি ঢোকানোর চেষ্টা করা হয়। ট্রলি ব্যাগের আকৃতি ছোট হওয়ার, মৃতদেহকে ব্যাগের ভিতর দিকে রেখে ও পা দুটোকে বাইরে বের করে ঘরের এক কোণে সারারাত মৃতদেহ ফেলে রাখে। অভিযুক্ত ফাল্গুনী ঘোষ ও তার মা আরতী ঘোষ, তাদের ভাড়া বাড়ি তালা বন্ধ করে, ওই অবস্থায় ঘরের ভিতর সুমিতা দেবীর মৃতদেহ রেখে ট্রলি ব্যাগ কলকাতায় রওনা হয়।
এরপর কলকাতা থেকে নতুন একটি বড় আকারের নীল ট্রলি ব্যাগ কেনে। মৃতা সুমিতা দেবীর ফোন-পে ব্যবহার করে কলকাতায় সোনার গয়নার অর্ডার দেয় ও ক্যাশ টাকা তোলে। তারপর হোটেলে খাওয়া দাওয়া করে সন্ধ্যায় মধ্যমগ্রাম ফিরে এসে আবার মধ্যমগ্রামের একটি সোনার দোকান থেকে মৃত সুমিতাদেবীর শরীর থেকে খুলে নেওয়া সোনার গহনা পরিবর্তন করে নিজেদের জন্য বেশ কিছু নতুন সোনার গয়না ও টাকা নেয়।
রাতে দুজন অভিযুক্ত মিলে মৃতা সুমিতাদেবীর দেহ নতুন ট্রলি ব্যাগে ঢোকানোর চেষ্টা করে। কিন্তু নতুন ট্রলিতে পা সহ পুরো শরীরের জায়গা না হওয়ার জন্য, পা দুটি হাঁটুর কাছ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে এবং নতুন ট্রলি ব্যাগের মধ্যে শরীর ও বিচ্ছিন্ন পা দুটি একসাথে ঢুকিয়ে রাখে। ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে কুমোরটুলি ঘাটে ফাল্গুনী ও আরতি, দুজনে একটি ট্রলি ব্যাগ গঙ্গায় ফেলতে যায়। সেই সময় সন্দেহ হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের। তাদের ঘিরে রেখে পুলিসকে খবর দেওয়া হয়। ট্রলি ব্যাগ খুলতেই দেখা যায়, এক মহিলার টুকরো টুকরো দেহ। খুনের অভিযোগে ফাল্গুনী ঘোষ এবং তার মা আরতি ঘোষকে গ্রেফতার করে পুলিস।