আগামী বছর পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন। আগামী মাসেই বিহারে বিধানসভা নির্বাচন। ধীরে ধীরে পশ্চিমবঙ্গ এবং বিহারের মানুষ আরও এক পরীক্ষার সম্মুখীন হতে চলেছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার, নাগরিকত্ব নিয়ে নির্বাচন কমিশন যে প্রহসন শুরু করেছে, তা সত্যিই নিন্দনীয়। গত ৭ অক্টোবর ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার কলকাতায় এসেছেন পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর বিষয়ক কার্যকলাপ সংগঠিত ও বিভিন্ন স্তরে বৈঠক করার জন্য। তার বিরোধিতাতেই বুধবার, ৮ অক্টোবর কলকাতার চিফ ইলেকশন কমিশনারের অফিসের সামনে অবস্থান মঞ্চের মধ্য দিয়ে সরব হল দেশ বাঁচাও গণমঞ্চ।
এই বিক্ষোভ মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সমাজকর্মী সুশান রায়, পরিচালক সুদেষ্ণা রায়, সমাজকর্মী বাসুদেব ঘটক, প্রবীণ সাংবাদিক রন্তিদেব সেনগুপ্ত, বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী সৈকত মিত্র, নাজমুল হক, অমিত কালী, অভিনেতা রাহুল চক্রবর্তী, অভিনেতা ভিভান ঘোষ, অভিনেত্রী সোমা চক্রবর্তী, অধ্যাপক কুন্তল ঘোষ, অধ্যাপক দীপঙ্কর দে, জাতীয় বাংলা সম্মেলনের সভাপতি সিদ্ধব্রত দাস, সাংবাদিক সুমন ভট্টাচার্যের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। ভোটাধিকার, এস আই আর নিয়ে দেশ বাঁচাও গণমঞ্চের বক্তব্য স্পষ্ট।
বাংলার কোনও বৈধ ভোটারকে যেন-তেন-প্রকারেণ জোরজবরদস্তি করে অবৈধ ভোটারে পরিণত করা যাবে না। ২০২৪-এর লোকসভা ভোটে যেসব মানুষের ভোটে কেন্দ্রে ইউনিয়ন সরকার এসেছে, সেই ভোটার তালিকাকেই বহাল রাখতে হবে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে। একমাত্র যদি কোনও ব্যক্তি মারা যায়, শুধুমাত্র সেই নামটিই বাতিল করতে হবে ভোটার তালিকা থেকে। ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে ভিনরাজ্য থেকে যেসব ব্যক্তিদের ডুপ্লিকেট এপিক কার্ড বা ভোটার কার্ড বানিয়ে ভোটে কারচুপি করার কুমতলবে বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় ঢোকানো হচ্ছে তাদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে। দেশ বাঁচাও গণমঞ্চের সদস্যরা বলছেন, নির্বাচন কমিশন বৈধ ভোটার তালিকা হিসেবে যে তালিকাটি প্রকাশ করেছিল, তা ২০০২ সালের ভোটার তালিকা। কেন ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় যাদের নাম রয়েছে তারাই শুধু ভোটার দিতে পারবে?
তার পরবর্তী ভোটার তালিকায় থাকা ভোটারদের নাম কোন নথির সাপেক্ষে বাদ গেল তার জবাব নির্বাচন কমিশনকে দিতে হবে। যদি কোনও ব্যক্তিকে অবৈধ ভোটার হিসেবে গণ্য করা হয়, অনাগরিক হিসেবে গণ্যবকরা হয়, তাহলে তাদের সন্তানদেরও কি এই দেশের নাগরিক হিসেবে গণ্য করা হবে না? নাগরিক হিসেবে কি গণ্য করা হবে না তাদেরও, যারা পশ্চিমবঙ্গ থেকে বা বিহার থেকে অন্য রাজ্যে কাজ করতে যাচ্ছে? সেটাই শুরু করছে নির্বাচন কমিশনের নতুন প্রকল্প এসআইআর। বিহারের এমন বহু নাগরিকের নাগরিকত্ব শুধুমাত্র বাড়িতে না থাকার কারণে বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে এরকম কার্যকলাপ আশা করা যায় না।
দেশ বাঁচাও গণমঞ্চের সদস্যদের বক্তব্য নির্বাচন কমিশনারের পদ একটি নিরপেক্ষ পদ। এই পদে আসীন পদাধিকারী ব্যক্তি কোনও নির্দিষ্ট দলের বা কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তির নির্দেশানুযায়ী কাজ করতে পারেন না, এটি সম্পূর্ণ সংবিধান এক্তিয়ারভুক্ত, সম্পূর্ণরূপে বেআইনি। স্বয়ং সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি পর্যন্ত প্রশ্ন তুলেছেন যে, নির্বাচন কমিশনের এসআইআর যেসব দলিল না থাকলে ভোটাধিকার বাতিল বলছে, তার কোনওটাই তাঁর কাছে নেই, তাহলে কি তাঁকেও ভোটদান থেকে বিরত রাখা হবে?
দেশ বাঁচাও গণমঞ্চের একাধিক সদস্যের বক্তব্য, এমন করেই তিন লক্ষেরও বেশি মানুষের বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করেছে এসআইআর, ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে বহু মানুষকে। জাতীয় বাংলা সম্মেলনের সভাপতি সিদ্ধব্রত দাসের উদ্যোগে বহু মানুষ জড়ো হয়েছিলেন এই সভায়, ছিলেন অন্যান্য সাধারণ মানুষও।
দেশ বাঁচাও গণমঞ্চের সদস্যেরা মঞ্চ থেকে দাবি তুলেছেন কিছুতেই পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে রোহিঙ্গা, অনুপ্রবেশকারী, বাংলাদেশি সন্দেহে বৈধ ভোটার বাতিল করা যাবে না, গুজরাট, উত্তরপ্রদেশের মানুষদের নামে ভুয়ো এপিক কার্ড বানিয়ে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় যোগ করা যাবে না। যদি শুধুমাত্র ভোটে কারচুপি করে ভোট জেতানোর জন্য বিজেপির প্ররোচনায় নির্বাচন কমিশন এসআইআর প্রকল্পের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের নাগরিকত্ব কেড়ে নিতে চায়, তাহলে বাংলার মানুষ প্রতিবাদে বারবার রাস্তায় নামবে।