কমিশন এবার অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট সুনিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর, তা আগেই জানিয়েছিলেন তিনি। এদিন বীরভূমের দুবরাজপুরে গিয়ে গতবার আক্রান্ত বিরোধী দলের এক কর্মীকে আশ্বস্ত করে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল বললেন, "আমরা সবাই আছি, কমিশন আছে, এসপি আছেন, হেল্পলাইন চালু হবে"। তারপরই তাঁর প্রশ্ন, "এবার আর ভয় নেই তো"?
কমিশনের দাওয়াই যে কাজ করছে এবার, তা বোঝা গেল ওই রাজনৈতিক কর্মীর উত্তরেই, "না, আপাতত ভয় নেই"।
সদলবলে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে গেলেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। সিউড়িতে সর্বদলীয় বৈঠকও করলেন। নন্দীগ্রামের পর এবার সিউড়িতে এলেন, ভয় কি কেটেছে?
"আমাদের এখানে অফিসাররা আছেন, ওসি আছেন, সেক্টর ম্যাজিস্ট্রেট আছেন, আমাদের পুলিস বাহিনী আছে। আমি বললাম, এবার ভোট দিন, নির্ভয়ে ভোট দিন। যেমন দুর্গা পুজোর প্যান্ডেলে যান, তেমনভাবেই বুথে গিয়ে ভোট দিতে আসুন। আমাদের প্রশাসন আছে, নির্বাচন কমিশন আছে, আমরা দেখবো"।
এখানকার মানুষ কি কোনও অভিযোগ জানালেন? উত্তর এল, "না, সেভাবে কেউ কিছু জানাননি। গতবার ভোট-পরবর্তী হিংসা হয়েছিল একজনের বাড়িতে। উনি বললেন, এখন সব ঠিকই আছে। উনি একটা মামলাও করেছিলেন। ওই কেসের কী হল, তা আমরা দেখবো"।
বাংলার 'ভোট কালচার' পাল্টাবে এবার?
বাংলার 'ভোট কালচার' যে এবার পাল্টাবে তার আগাম ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তের কথায়। কালীঘাট থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেছিলেন, "(ভোট) কালচার মানে কি বিজেপির ডান্স করা? উনি (সুব্রত গুপ্ত) এখানকার কালচার কী চেঞ্জ করবেন? বেঙ্গলের কালচার, বাংলার কালচার, বাংলাতেই থাকবে। উনি নিজের কালচার ঠিক করুন আগে"।
পরে যখন সাপ্লিমেন্টারি তালিকা নিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে যখন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে বাংরবার আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, তখন তার উত্তরে তিনি স্পষ্ট বুঝিয়ে দেন: ভোট এবার অন্যরকম হবে।
কীরকম ভোট হবে এবার?
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জানান, বুথের নিয়ন্ত্রণ থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানের হাতে। তাই ইভিএমে সেলোটেপ (হামেশাই যে-অভিযোগ ওঠে), ওয়েবকাস্টিং ক্যামেরায় চুইংগাম লাগানো সহজ হবে না"। বাহিনীকে তো পুলিস নিয়ন্ত্রণ করবে, তাহলে? এবার আরও স্পষ্ট উত্তর, "পুলিসের কাজ হবে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সহায়তা করা। বুথের নিয়ন্ত্রণ আর পুলিসের হাতে থাকবে না। যাঁরা সীমান্তে সর্বদা পাহারা দিচ্ছেন, সেই জওয়ানদের কাছে একটা বুথ নিয়ন্ত্রণ করা কোনও ব্যাপারই নয়"।
বেচাল দেখলেই পপ আপ দেবে এআই
কমিশন এবার এতটুকু বেচাল দেখলে সংশ্লিষ্ট বুথের ভোট খারিজ করে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেবে। রাজ্যের সিইও-র কথায়, "আগে রিপোল (পুনর্নির্বাচন) ছিল এক্সসেপশন, এবার এতটুকু সন্দেহ থাকলেই পুনর্নির্বাচন হবে। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট সুনিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন এবার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বুথের ভিতর চারজনের বেশি প্রবেশ নিষেধ। রাজ্যের ৮০ হাজার বুথের কোনও একটিতে যদি চারজনের বেশি লোক ঢুকে পড়ে, তাহলে সঙ্গে-সঙ্গে পপ-আপ দেবে এআই। সেই পপআপ দেখলেই তৎদণ্ডে বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত কমিশনের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে চলে যাবেন। কেন্দ্রীয় বাহিনীও দ্রুত পদক্ষেপ করবে। প্রত্যেক বুথের অক্ষাংশ দ্রাঘিমাংশ, গুগল ম্যাপ, প্রিসাইডিং অফিসার, সব রয়েছে (সফটওয়্যারে)"। এরপর কমিশনের সাবধানবাণী, "কেউ গন্ডগোল করলে নিজের দায়িত্বে করবে"।