রঙের উৎসব দরজায় কড়া নাড়ছে, আর তার সঙ্গেই চিরচেনা প্রশ্ন... দোল কবে? হোলি কবে? এ বছরও সেই বিভ্রান্তি রয়েই গেল। কারণ দোল ও হোলি একদিনে নয়, পালিত হবে আলাদা দিনে।
হিসেব অনুযায়ী, হোলিকা দহন বা বাংলায় ন্যাড়াপোড়া হবে ২ মার্চ, সোমবার। পূর্ণিমা তিথি শুরু ২ মার্চ সন্ধ্যা ৫টা ৪২ মিনিটে এবং থাকবে ৩ মার্চ বিকেল ৪টা ৫৭ মিনিট পর্যন্ত।
ফাল্গুনী পূর্ণিমার দিন, অর্থাৎ ৩ মার্চ (মঙ্গলবার) পালিত হবে দোল পূর্ণিমা। পশ্চিমবঙ্গে সরকারি ছুটিও ওই দিনই। অন্যদিকে, দেশের অধিকাংশ প্রান্তে ৪ মার্চ (বুধবার) উদযাপিত হবে হোলি।
এবারের দোলকে আরও বিশেষ করে তুলেছে এক বিরল জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা... চন্দ্রগ্রহণ। ৩ মার্চ দুপুর ৩টা ২০ মিনিটে শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৬টা ৪৭ মিনিট পর্যন্ত চলবে গ্রহণ। পশ্চিমবঙ্গ-সহ পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের একাধিক রাজ্য থেকে তা দেখা যাবে। প্রায় ৩ ঘণ্টা ২৭ মিনিট স্থায়ী এই গ্রহণ উৎসবের আবহে বাড়তি কৌতূহল জাগাচ্ছে।
দোল শুধু রঙের উৎসব নয়, এটি ভক্তি ও সংস্কৃতির এক মিলনক্ষেত্র। বৈষ্ণব মতে এদিন রাধাকৃষ্ণের আরাধনা হয়, আর এই দিনেই জন্মগ্রহণ করেন চৈতন্য মহাপ্রভু। মথুরা-বৃন্দাবনে দোলের ঐতিহ্য আজও সমান উজ্জ্বল।
বাংলার হৃদয়ে দোল মানেই আবার শান্তিনিকেতনের বসন্তোৎসব-যার সূচনা করেছিলেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ধর্মীয় গণ্ডি ছাড়িয়ে নৃত্য, গান, কবিতা আর আবিরে রঙিন হয়ে ওঠে প্রান্তর। তাই দিন নিয়ে যতই সংশয় থাক, উৎসবের আবেগে কোনও ঘাটতি নেই। ৩ মার্চ দোলে রঙিন হবে বাংলা, ৪ মার্চ হোলিতে রঙে ভাসবে দেশ।