গরমের ...">
গরমের সময় সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে ত্বকে ট্যান পড়া একটি সাধারণ সমস্যা। বিশেষ করে যাদের কম্বিনেশন স্কিন—অর্থাৎ ত্বকের কিছু অংশ তেলতেলে এবং কিছু অংশ শুষ্ক—তাদের ক্ষেত্রে ট্যান ও ত্বকের অসম রঙ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তবে ভালো খবর হলো, ঘরোয়া কিছু সহজ উপায় মেনে চললে এই ট্যান ধীরে ধীরে দূর করা সম্ভব। প্রথমেই আসা যাক লেবু ও মধুর ব্যবহার। লেবুতে থাকা ভিটামিন সি প্রাকৃতিক ব্লিচিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করে, যা ট্যান হালকা করতে সাহায্য করে। এক চা চামচ লেবুর রসের সঙ্গে এক চা চামচ মধু মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে ১০–১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেললে ত্বক উজ্জ্বল হয় এবং শুষ্ক অংশে আর্দ্রতা বজায় থাকে।
আরেকটি কার্যকর উপায় হলো বেসন ও দইয়ের প্যাক। এক চামচ বেসনের সঙ্গে দুই চামচ টক দই মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন। এটি মুখে লাগিয়ে ১৫–২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। বেসন ত্বকের ময়লা ও ট্যান দূর করে, আর দই ত্বককে ঠান্ডা ও নরম রাখে। কম্বিনেশন স্কিনের জন্য এটি একটি আদর্শ ফেসপ্যাক। অ্যালোভেরা জেলও ট্যান দূর করার ক্ষেত্রে দারুণ কার্যকর। অ্যালোভেরা ত্বকের জ্বালা কমায়, সানবার্ন সারাতে সাহায্য করে এবং ত্বকের প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনে। প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে সরাসরি অ্যালোভেরা জেল মুখে লাগালে ধীরে ধীরে ট্যান হালকা হয়।
শসার রস আর গোলাপজল মিশিয়ে ব্যবহার করাও উপকারী। শসা ত্বক ঠান্ডা রাখে এবং ট্যান কমাতে সাহায্য করে, আর গোলাপজল ত্বকের pH ব্যালান্স ঠিক রাখে। এই মিশ্রণটি টোনার হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। এছাড়া নিয়মিত স্ক্রাব করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ওটস বা চিনি দিয়ে হালকা স্ক্রাব করলে মৃত ত্বক কোষ দূর হয় এবং ট্যান কমতে সাহায্য করে। তবে কম্বিনেশন স্কিনে অতিরিক্ত স্ক্রাব করা ঠিক নয়, সপ্তাহে ১–২ বার যথেষ্ট।
সবশেষে, বাইরে বের হলে অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। এটি নতুন ট্যান পড়া থেকে ত্বককে রক্ষা করে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত জল পান করলে ত্বক ভিতর থেকে হাইড্রেটেড থাকে। সঠিক যত্ন ও নিয়মিত ঘরোয়া উপায় মেনে চললে গরমে কম্বিনেশন স্কিনের ট্যান ধীরে ধীরে দূর হয়ে ত্বক ফিরে পেতে পারে তার স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ও সতেজতা।