শীতকালীন বিভিন্ন সবজির মধ্যে অন্যতম উল্লেখযোগ্য হল বিট। শীতের এই সবজি স্বাস্থ্যের পক্ষে খুব ভালো কাজ করে। প্রসঙ্গত, যারা স্বাস্থ্য সচেতন রয়েছেন তাদের মধ্যে অনেকেই সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে বিটের রস পান করে থাকেন। এই বিটের রস আবার বলিউড মহলের বিভিন্ন নায়িকারা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ, অনেকেই পান করে থাকেন। এ প্রসঙ্গে পুষ্টিবিদরা বলছেন সাধারণভাবে বিটের রস স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। এই সবজিতে রয়েছে এই বিভিন্ন ধরনের খনিজ ও ভিটামিন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। তবে কোন কিছুই অতিরিক্ত পরিমাণে স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। তেমনি জানা যাচ্ছে বিটও নাকি অতিরিক্ত খেলে এতে বিপরীত হতে পারে। তাহলে জেনে নেয়া যাক বেশি পরিমাণে বিট খেলে কী কী সমস্যা দেখা দিতে পারে?
১) চিকিৎসকেরা বলছেন, বিটে খুব ভালো পরিমাণে নাইট্রেট থাকায় রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে। এই নাইট্রেটের আবার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও হতে দেখা দেয়। জানা যাচ্ছে, এই উত্পাদন আবার অতিরিক্ত মাত্রায় শরীরে প্রবেশ করলে পাকস্থলীতে থাকা অ্যাসিডের সঙ্গে বিক্রিয়া করে। গবেষণায় দেখা গেছে, যৌগটির সঙ্গে ক্যান্সারের যোগ থাকলেও থাকতে পারে।
২) বিশেষজ্ঞরা বলছে যেসব সবজিতে অক্সালেট বেশি পরিমাণে থাকে সেগুলি ক্যালশিয়ামের সঙ্গে একত্রিত হয়ে ক্যালশিয়াম অক্সালেট ক্রিস্টাল তৈরী করতে পারে। এর ফলে, ধীরে ধীরে ক্রিস্টালগুলি কিডনিতে পাথরের আকারে জমতে শুরু করে। বিটে যেহেতু বেশি পরিমানে অক্সালেট রয়েছে। সেজন্য অত্যাধিক মাত্রায় কেউ বিট খেলে কিডনিতে স্টোন হওয়ার সম্ভবনা তৈরী হতে পারে।
৩) বিটের মধ্যে থাকা নাইট্রেট উপাদান আবার রক্তচাপকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এর সঙ্গে রক্ত চলাচলকেও স্বাভাবিক রাখে। তবে, যাঁদের রক্ত চলাচল স্বাভাবিকভাবে কম তাদের এই সবজি অতিরিক্ত মাত্রায় না খাওয়াই ভালো।
৪) বিট যেহেতু মিষ্টি হয় সেই জন্য যাঁদের ডায়াবেটিস রয়েছে তাঁদের বেশি মাত্রায় না খাওয়াই ভালো। পুষ্টিবিদদের কথা অনুযায়ী, বিট যদি কেউ সবজি হিসাবে খায় তাহলে খুব একটা সমস্যা হবে না। কিন্তু, বিটে ফাইবার থাকায় তা রক্তে থাকা শর্করা শোষণে বাধা দেয়। এদিকে, আবার বিটের রসে ফাইবার থাকে না। তাই, রস খাওয়া চলবে না।