গরমকালে শরীরকে ঠান্ডা ও সুস্থ রাখতে “ছাছ” বা মাঠা একটি অত্যন্ত উপকারী পানীয়। এটি দই থেকে তৈরি হয় এবং হালকা, সহজপাচ্য ও পুষ্টিগুণে ভরপুর। প্রচণ্ড গরমে যখন শরীর ক্লান্ত ও জল শূন্য হয়ে পড়ে, তখন এক গ্লাস ঠান্ডা ছাছ শরীরকে মুহূর্তেই সতেজ করে তোলে।
প্রথমত, ছাছ শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে। এতে প্রচুর জল ও প্রয়োজনীয় ইলেকট্রোলাইট থাকে, যা ঘামের মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া লবণ ও খনিজের ঘাটতি পূরণ করে। ফলে শরীরে জল শূন্যতা বা ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি কমে যায়।
দ্বিতীয়ত, ছাছ হজমশক্তি উন্নত করে। এতে থাকা প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। গরমকালে অনেকেই হজমের সমস্যায় ভোগেন, যেমন গ্যাস, অম্বল বা বদহজম। নিয়মিত ছাছ খেলে এসব সমস্যা অনেকটাই কমে যায়।
তৃতীয়ত, ছাছ শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এটি স্বাভাবিকভাবেই শরীরকে ঠান্ডা রাখে এবং অতিরিক্ত গরমের প্রভাব কমায়। বিশেষ করে দুপুরের খাবারের পর এক গ্লাস ছাছ পান করলে শরীর অনেকটা হালকা ও স্বস্তিদায়ক লাগে।
এছাড়া ছাছ ক্যালোরিতে কম, তাই এটি ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক। যারা ডায়েট মেনে চলেন, তাদের জন্য এটি একটি আদর্শ পানীয়। এতে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন বি-কমপ্লেক্সও থাকে, যা শরীরের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করে।
ছাছের সঙ্গে সামান্য লবণ, ভাজা জিরা গুঁড়ো বা পুদিনা পাতা মিশিয়ে খেলে এর স্বাদ ও উপকারিতা আরও বেড়ে যায়। তাই গরমকালে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ছাছ অন্তর্ভুক্ত করা শরীরকে সুস্থ ও সতেজ রাখার একটি সহজ ও কার্যকর উপায়।