স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রেখে এবং ওজন কমানোর জন্য আজকালকার দিনে সেলিব্রেটি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ অনেকেই চিনি ছাড়া ব্ল্যাক কফি খেয়ে থাকেন। আবার এমনও অনেকে রয়েছেন যারা কি ও মাখন মিশিয়ে ব্ল্যাক কফি পান করেন। এখনও অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে ঘি কিংবা মাখন দিয়ে কফি খেলে কি সত্যি ওজন কমতে পারে? নাকি কেবলই শরীরে ক্যাফেইন লেভেল বেড়ে যায়? চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক-
ব্ল্যাক কফি কি ওজন কমাতে পারে?
কফির মধ্যে থাকা ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড মেদ কমাতে সাহায্য করে। এছাড়াও, কফির অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। এই কারণে অনেক ডায়াবেটিসের রোগীরা ব্ল্যাক কফি পান করতে পারেন। চিকিৎসকেরা বলছেন, কফি খেলেই শরীরে থার্মোজেনেসিস প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়। অর্থাৎ, শরীরের তাপমাত্রা বাড়তে থাকে এবং চর্বি গলাতে সাহায্য করে। এই থার্মোজেনেসিস প্রক্রিয়া শরীরে তাপ উৎপাদন করে বলে ফ্যাট অক্সিডেশন বাড়তে পারে। অর্থাৎ শরীরের মধ্যে ফ্যাট কি সহজে ভাঙতে সাহায্য করে। এইভাবেই অনেকে ব্ল্যাক কফি খেয়ে ওজন কমান। লাইপোলাইসিস প্রক্রিয়ার মাধ্যমেও ব্ল্যাক কফি ওজন কমাতে সাহায্য করে।
ব্ল্যাক কফি খাওয়ার উপকারিতা:
১) টাইপ-২ ডায়াবিটিস যাঁদের রয়েছে তাঁরা ব্ল্যাক কফি খেলে উপকার পেতে পারেন।
২) ব্ল্যাক কফি আবার ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে ও মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করে
৩) এই ধরণের কফি ক্রনিক অসুখের ঝুঁকি প্রতিরোধ করে
৪) ব্ল্যাক কফি ফ্যাটি লিভারের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে ও লিভারের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোজকার জীবনে কেউ যদি ২০০-৩০০ মিলিগ্রামের বেশি কফি খায় তাহলে তা সমস্যার সৃষ্টি করে। কালো কফি বেশি পান করলে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, গ্যাস-অম্বল কিংবা অনিদ্রার মত সমস্যা দেখা দেয়। সাধারণত ২ কাপ ব্ল্যাক কফিই শরীরের পক্ষে ভালো। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্ল্যাক কফি বিকেল ৪টের পর না খাওয়াই ভালো। সকালে ৯টা থেকে ১১টার মধ্যে ব্ল্যাক কফি খাওয়া সবচেয়ে ভালো।