বয়স হলেই ধীরে ধীরে শরীরে নানা রকমের রোগ বাসা বাঁধতে দেখা যায়। নানা ধরনের রোগের মধ্যে অন্যতম হল ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা। এই সমস্যা আবার শরীরে বাড়লে তা বোঝাও যায় না। তবে, কারোর যদি গাঁটে গাঁটে ব্যথা কিংবা গোড়ালি ব্যথা আঙুল ব্যথা অনুভব করে তাহলে অনেকেই মনে করেন তাদের হয়তো ইউরিক অ্যাসিডের বাড়বাড়ান্ত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরিক অ্যাসিড বাড়লে কেবল ওষুধের ওপরই ভরসা রাখা উচিত তা নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এমন অনেকে রয়েছেন যারা প্রাণীজ প্রোটিন খাওয়া ছেড়ে দেন। অন্যদিকে, দেখতে গেলে কেউ যদি বেশি পরিমাণে অ্যালকোহল পান করেন কিংবা রেডমিট খান তাহলে তার ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়তে পারে। এমনকি, নিরামিষ খাবার খেলেও নাকি ইউরিক অ্যাসিড বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। একটু লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, আজকালকার দিনে এমন অনেক মানুষই রয়েছেন যাঁরা স্বাস্থ্য সচেতন হওয়ার জন্য অনেকেই মাছ-মাংস খাওয়া কমিয়ে দিয়েছেন। আবার এমনও কেউ কেউ রয়েছেন যাদের মাছ-মাংস একেবারেই অপছন্দ। কিন্তু, তা সত্ত্বেও তাদের ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়ছে। কিন্তু কেন? চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক এই সমস্যা থেকে কীভাবে মুক্তি পাওয়া সম্ভব-
নিরামিষ খাবার খেলেও কেন ইউরিক অ্যাসিড বাড়ে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরিক অ্যাসিডের সঙ্গে নাকি পিউরিনের সম্পর্ক রয়েছে। এই পিউরিন আবার কেবল প্রাণীজ খাবারেই পাওয়া যায় তা নয়, বেশকিছু শাকসবজি কিংবা ডালেতে বেশ উচ্চমাত্রায় পিউরিন পাওয়া যায়। এছাড়াও, সয়া মিল্ক, মাশরুম, বাঁধাকপি, পালংশাক থেকে শুরু করে কাবুলি ছোলা, সয়াবিন, তোফু, মুসুর ডাল, রাজমা ও অন্যান্য খাবারেও পিউরিন পাওয়া যায়। পিউরিন থেকে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়ে।
এখন অনেকেই প্রশ্ন করতে পারে, ইউরিক অ্যাসিডের বাড়ার পিছনে আর কোন কারণ দায়ী থাকতে পারে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, লিভারে ইউরিক অ্যাসিড তৈরি হয় প্রায় ৭০ শতাংশ। তাই, শরীরে কারোর যদি ইউরিক অ্যাসিড বাড়ে তার জন্য কেবল প্রাণীজ খাবার বা পিউরিন সমৃদ্ধ খাবারকেই সব দোষ দেওয়া যাবে না। কেউ যদি সড়ক জাতীয় খাবারও অত্যাধিক পরিমাণে খায় তার জন্যও ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বৃদ্ধি হতে পারে। ডায়াটেশিয়ানদের বক্তব্য, কেউ যদি সারাদিন ফল ড্রাই ফ্রুটস কিংবা ফল খেতে থাকে, সেই সময় খুব স্বাভাবিকভাবেই শরীরে ফ্রুক্টোজ ঢোকে। এর ফলে, শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়ে। আবার, নিরামিষ খাবারেও বেশি পরিমাণে কার্বস থাকে এখান থেকেও ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি হতে পারে ও ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকে।