পুষ্টি গুণের দিক দিয়ে বিচার করে দেখতে গেলে কুমড়ো বাকি সবজিগুলোর থেকে কোন অংশেই পিছিয়ে নেই। তবে, এখনকার দিনে কুমড়োর চেয়ে তার দানা নিয়েই চর্চা বেশি পরিমাণে হয়। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, কুমড়োর দানা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। কেউ যদি নিয়ম করে রোজকার জীবনে কুমড়োর বীজ খেয়ে থাকে তাহলে নাকি একাধিক রোগের ঝুঁকি কমতে পারে। ইতি ক্যান্সার কিংবা উচ্চ রক্তচাপের মত সমস্যাও বলতে পারে। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক, কুমড়োর বীজ খেলে কী কী উপকার পাওয়া যেতে পারে?
১) বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুরুষদের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের মধ্যে প্রস্টেট সংক্রান্ত সমস্যা দেখতে পাওয়া যায়। এমন সময়ে প্রস্টেট গ্রন্থির আকারও বড় হয়ে যায়। এর ফলে, কারোর কারোর ক্ষেত্রে প্রস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এক্ষেক্ষেত্রে কুমড়োর দানা সেই সমস্যা দূর করতে পারে। কুমড়োর বীজে থাকা জিঙ্ক এই ধরণের সমস্যা নিয়ন্ত্ৰণ করতে সাহায্য করে।
২) কুমড়োর বীজে বেশ ভালো পরিমাণে ম্যাগনেশিয়াম আছে। এই খনিজ উপাদান আবার খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে ও রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও, এই বীজ হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
৩) চিকিৎসকদের মতে, অনিদ্রার সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে কুমড়োর বীজ। এই সবজির দানা আবার মানবদেহের সেরোটোনিন এবং মেলাটোনিন নামের দু’টি হরমোন বজায় রাখতে সাহায্য করে। এই দুই ধরণের হরমোন ঘুমের চক্র নিয়ন্ত্রণ করে। কুমড়োর দানায় আবার ট্রিপটোফ্যান নামের এক অ্যামিনো অ্যাসিড রয়েছে, যা ঘুমের চক্র স্বাভাবিক রাখে সাহায্য করে।
৪) কুমড়োর বীজে রয়েছে ভিটামিন ই নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এই দানা আবার ফ্রি র্যাডিকেলের সঙ্গে লড়াই করে ও অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে। এর ফলে ত্বকের জেল্লা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
এখন অনেকের মনেই প্রশ্ন জগতে পারে, রোজকার জীবনে কুমড়োর বীজ কতটা পরিমাণে খাওয়া উচিত? বিশেষজ্ঞরা বলছে, এই বীজে উপকার আছে বলে মুঠো মুঠো কুমড়োর বীজ একেবারেই খাওয়া উচিত নয়। যদি কেউ বেশি মাত্রায় কুমড়োর বীজ খায় তাহলে অম্বল, বদহজম কিংবা গ্যাসের মত সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। অনেক সময়ে আবার শরীরে মিনারেলের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে এবং সোডিয়ামের মাত্রা বাড়িয়ে তুলতে পারে। চিকিৎসকেরা বলছেন, রোজকার জীবনে ১৫-৩০ গ্রাম পর্যন্ত কুমড়োর বীজ খাওয়া যেতে পারে।