যৌনতা মানেই শুধু শারীরিক ঘনিষ্ঠতা নয়-এটা নিজের শরীর, মন আর চাহিদাকে বোঝার এক গভীর যাত্রা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, সঙ্গীর সুখের কথা ভাবতে ভাবতেই অনেক নারী নিজের আনন্দের চাবিকাঠিটাই হারিয়ে ফেলেন। ফলে অর্গাজম হয়ে ওঠে বিরল অভিজ্ঞতা। অথচ কিছু মৌলিক বিষয় মাথায় রাখলেই সুখ ধরা দিতে পারে সহজেই।
সবার আগে জরুরি নিজের শরীরকে চেনা। শুনতে সহজ হলেও, এটাই সবচেয়ে উপেক্ষিত ধাপ। নারীর যৌন আনন্দের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হল ক্লিটোরিস-যার বাইরের অংশ যেমন সংবেদনশীল, তেমনই ভেতরের গঠনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই জানেন না, ক্লিটোরিসের অভ্যন্তরীণ অংশটি ইংরেজি ‘Y’ অক্ষরের মতো বিস্তৃত, যা যোনির উপরের ভেতরের দেওয়ালের সঙ্গে যুক্ত। ঠিক এই জায়গাটিই অনেক সময় তীব্র সুখের অনুভূতির জন্ম দেয়।
স্বমেহন হোক বা সঙ্গীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা-কোথায়, কীভাবে স্পর্শে ভালো লাগে, তা নিজে অন্বেষণ করা ভীষণ দরকার। এই বোঝাপড়া তৈরি হলে সঙ্গীর সঙ্গে তা ভাগ করে নেওয়াটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। খোলামেলা যোগাযোগ যৌন জীবনের আড়ষ্টতা ভেঙে দেয়। সংকোচ নয়, বরং স্পষ্ট করে বলুন, কোন স্পর্শ, কোন অবস্থান আপনাকে বেশি আনন্দ দেয়।
মনে রাখতে হবে, বাস্তব যৌনতা সিনেমার মতো সাজানো নয়। এখানে মনঃসংযোগ অত্যন্ত জরুরি। সঙ্গীর উপর নয়, নিজের অনুভূতির উপর ফোকাস রাখুন। প্রয়োজনে শরীরী ভাষা, ইশারা বা হাতের সাহায্যে সঙ্গীকে বুঝিয়ে দিন কোন ছন্দে বা কোন কোণে ঘনিষ্ঠতা সবচেয়ে সুখকর হচ্ছে।
অর্গাজম কোনও পরীক্ষায় পাশ করার বিষয় নয়। এটা একান্ত ব্যক্তিগত, স্বাভাবিক ও শেখার মতো অভিজ্ঞতা। নিজের শরীরকে সম্মান করুন, নিজের চাহিদাকে গুরুত্ব দিন। তাহলেই শব্দে-ইশারায়, বলে বলেই... শরীর জুড়ে বইবে সুখের ঝরনা।