অতিগরমে ‘লু’ বা হিটস্ট্রোক একটি মারাত্মক সমস্যা, যা অসাবধানতায় প্রাণঘাতীও হতে পারে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা যখন অনেক বেশি বেড়ে যায়, তখন শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হয় এবং লু লাগার ঝুঁকি বাড়ে। তাই এই সময়ে কিছু সতর্কতা মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।
প্রথমত, প্রচুর পরিমাণে জল পান করা উচিত। শরীরকে হাইড্রেট রাখা লু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। শুধুমাত্র জল নয়, ডাবের জল, লেবুর শরবত, ওআরএস বা ফলের রসও খাওয়া যেতে পারে। এগুলো শরীরে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
দ্বিতীয়ত, দুপুরের তীব্র রোদ এড়িয়ে চলা উচিত। সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সূর্যের তাপ সবচেয়ে বেশি থাকে। এই সময় অপ্রয়োজনীয় বাইরে বের হওয়া এড়ানোই ভালো। যদি বাইরে যেতেই হয়, তাহলে ছাতা, টুপি বা সানগ্লাস ব্যবহার করা উচিত।
তৃতীয়ত, হালকা ও ঢিলেঢালা পোশাক পরা উচিত। সুতির কাপড় গরমে সবচেয়ে আরামদায়ক এবং শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। গাঢ় রঙের বদলে হালকা রঙের পোশাক পরলে তাপ কম লাগে।
চতুর্থত, খাদ্যাভ্যাসেও পরিবর্তন আনা জরুরি। অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত এবং তার বদলে ফল, সবজি ও হালকা খাবার বেশি খাওয়া ভালো। তরমুজ, শসা, বাঙ্গির মতো জলসমৃদ্ধ ফল শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে।
এছাড়া লুর লক্ষণ যেমন মাথা ঘোরা, বমি ভাব, দুর্বলতা বা অতিরিক্ত ঘাম হলে দ্রুত ঠান্ডা জায়গায় গিয়ে বিশ্রাম নেওয়া এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সামান্য সচেতনতা ও সঠিক অভ্যাসই আপনাকে অতিগরমে লুর মতো বিপজ্জনক সমস্যা থেকে রক্ষা করতে পারে। তাই গরমে সুস্থ থাকতে এসব পরামর্শ মেনে চলুন এবং নিজের যত্ন নিন।