বর্তমান সময়ে অনেক তরুণ-তরুণীর মধ্যেই অল্প বয়সে চুল পেকে যাওয়ার সমস্যা দেখা যাচ্ছে। সাধারণত বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চুল পাকা স্বাভাবিক, কিন্তু যদি কম বয়সেই চুল সাদা হয়ে যায়, তাকে অকালপক্কতা বা প্রিম্যাচিউর গ্রেয়িং বলা হয়। এটি অনেকের আত্মবিশ্বাসেও প্রভাব ফেলে।
চুলের রঙ নির্ধারণ করে মেলানিন নামের একটি রঞ্জক পদার্থ। যখন শরীরে মেলানিন উৎপাদন কমে যায়, তখন চুল ধীরে ধীরে সাদা বা ধূসর হয়ে যায়। অল্প বয়সে চুল পাকার পেছনে বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে জেনেটিক বা বংশগত কারণ অন্যতম। যদি পরিবারে বাবা-মা বা দাদা-দাদীর অল্প বয়সে চুল পাকার ইতিহাস থাকে, তবে সেই প্রবণতা পরবর্তী প্রজন্মেও দেখা যেতে পারে।
এছাড়া অতিরিক্ত মানসিক চাপ, অনিয়মিত জীবনযাপন, পুষ্টির ঘাটতি এবং দূষণও বড় কারণ হতে পারে। বিশেষ করে ভিটামিন বি১২, আয়রন, কপার ও প্রোটিনের ঘাটতি চুল পাকার ঝুঁকি বাড়ায়। ধূমপান, অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড খাওয়া এবং ঘুমের অভাবও এই সমস্যাকে ত্বরান্বিত করতে পারে।
ভাবছেন তাহলে কী করবেন ? প্রথমত, খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনতে হবে। প্রতিদিন পুষ্টিকর খাবার যেমন সবুজ শাকসবজি, ডিম, দুধ, বাদাম, ফল এবং প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া জরুরি। এগুলো চুলের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
দ্বিতীয়ত, মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করুন। নিয়মিত ব্যায়াম, যোগব্যায়াম বা ধ্যান করলে শরীর ও মন দুটোই সুস্থ থাকে। পর্যাপ্ত ঘুমও খুব গুরুত্বপূর্ণ।
তৃতীয়ত, চুলের সঠিক যত্ন নিন। অতিরিক্ত কেমিক্যালযুক্ত হেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার কমিয়ে দিন। প্রাকৃতিক উপাদান যেমন নারকেল তেল, আমলা বা ভৃঙ্গরাজ তেল ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যেতে পারে।
তবে যদি খুব দ্রুত চুল পাকা শুরু হয়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ কখনও কখনও এটি শরীরের ভেতরের পুষ্টির ঘাটতির লক্ষণও হতে পারে বা হতে পারে অন্য কোনো সমস্যা। সঠিক যত্ন ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই অকালপক্কতা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।