শীত এখনও সম্পূর্ণভাবে কলকাতা থেকে বিদায় নেয়নি। ফেব্রুয়ারি মাসের সকালে কিংবা রাতের দিকে শীতের আমেজ বেশ ভালই অনুভব করা যায়। এই সূত্র ধরে বলা ভালো, শীতকাল মানেই অনেকের কাছে সকালে বিছানা ছাড়তে অনীহা হয়, সারাদিন ক্লান্তি ভাব দেখা যায় এমনকি চোখ ভারি হয়ে আসে। এছাড়াও কারো যদি ঘুম ঠিকঠাক না হয় তাহলেও শরীরে কাজ করার এনার্জি পাওয়া যায় না। অন্যদিকে, আবার একটু খেয়াল করলে দেখা যাবে ছুটির দিনেতেও মনে হয় সারাদিন শুয়ে থাকতে পারলেই ভালো। এখন অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, ঠিক কোন কারণে আমাদের শরীরে এমনটা হয়? চলুন জেনে নেওয়া যাক-
১) বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতকালে শরীরের ক্লান্তি ভাবের অন্যতম কারণ হল সূর্যালোকের অভাব। শীতকালে দিনের আলো যেহেতু দেরিতে আসে সেই জন্য সূর্যের আলো অনেক কম সময়ের জন্য আমরা পেয়ে থাকি। এই সূর্যের আলোর মধ্যে থাকা চিরতনী নামের ফিল-গুল হরমোন তৈরি করতে সহায়তা করে। কারোর শরীরে যদি হেরোটোনিনের মাত্রা কমে যায় তাহলে তার মনি অলসতা এমনকি মন খারাপের কারণও হয়ে উঠতে পারে।
২) চিকিৎসা বলছে ঠান্ডা তাপমাত্রা শরীরে মেটাবলিজমে প্রভাব ফেলে। ফলে শীতে শরীরকে উষ্ণ রাখতে বেশি পরিমাণে শক্তি ব্যয় হয়। এর ফলে খুব স্বাভাবিক পরিমাণ এই শরীরে ক্লান্তি আসে। অনেকের ক্ষেত্রে আবার শরীরে রক্ত সঞ্চালনের গতিও কমে যায়। তাই, সকালেই সময় কোন কাজ করতে গেলে শরীর ভারী লাগে ও কাজ শুরু করতে অনেক সময় লেগে যায়।
৩) শীতের সময় অনেকেরই ঘুমের রুটিন বদলে যায়। শীতের রাত যেহেতু দীর্ঘ হয় সেই কারণে অনেকেই বেশিক্ষণ সময় ধরে ঘুমান। কম্বলের উষ্ণতা শীতের ঘুমকে অনেক বেশি গভীর করে তোলে। কিন্তু, এমন সময় বিশেষজ্ঞরা বলছেন অতিরিক্ত ঘুমও আবার শরীরে অবসন্নতা দেখে আনতে পারে। এর কারণে সকালের দিকে মাথা ভার লাগতে পারে এমনকি কাজে মনোযোগের অভাব ও ঘটতে পারে।
৪) চিকিৎসকেরা বলছেন, অনেকের শরীরে এই শীতে ভিটামিন ডি-এর অভাব অভাব দেখতে পাওয়া যায়। এই ভিটামিনের অভাবে শরীর ও মনের উপরে নানা ধরণের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে দেখা যায়। ভিটামিন ডি-এর অভাবে পেশি দুর্বল হয়ে পড়ে, সারাদিন গা ঝিমঝিম করার সঙ্গে শরীরে সহজেই ক্লান্তিবোধ অনুভব হয়। আবার, এই ভিটামিনের অভাবে হাঁটুর ব্যাথা বাড়তে পারে। কারণ, এই সময় শরীরে ঠিক করে ক্যালসিয়াম শোষিত হয় না। অন্যদিকে আবার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার ফলে বারবার সর্দি-কাশি হতে পারে।
৫) শারীরিক কার্যকলাপ কম হলে কিংবা পরিশ্রম কম হলে ক্রমশ এনার্জি লেভেল কমে যায়। এই কারণে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন যদি নিয়মিত না নড়াচড়া করা হয় তাহলে রক্ত সঞ্চালন ধীর হয়ে যায়। এর ফলে, কোষে পুষ্টি ও অক্সিজেন ঠিকভাবে পৌঁছাতে পারে না। শরীরে সহজেই ক্লান্তি চলে আসে। শারীরিক পরিশ্রম কম হওয়ার কারণে মেটাবলিজমও খুব ধীর গতিতে হয়। অন্যদিকে, আবার যাঁরা শরীর চর্চা করে তাদের ব্যায়ামের সময় এন্ডোরফিন হরমোন নিঃসৃত হয়। চিকিৎসকেরা বলছে এর ফলে অলসতা ও মনোযোগের অভাব দেখা দেয়।