পায়ের তলায় হঠাৎ শিরায় টান ধরা বা খিঁচুনি লাগা একটি খুব সাধারণ কিন্তু অস্বস্তিকর সমস্যা। অনেকেই রাতে ঘুমের মধ্যে বা হাঁটার সময় হঠাৎ তীব্র ব্যথা অনুভব করেন। এই সমস্যাকে অনেক সময় “মাসল ক্র্যাম্প” বা “শিরা টান” বলা হয়। কিন্তু কেন এমন হয়, আর কীভাবে এর সমাধান করা যায়—তা জানা খুব জরুরি।
প্রথমত, শরীরে জলের ঘাটতি বা ডিহাইড্রেশন এই সমস্যার অন্যতম প্রধান কারণ। পর্যাপ্ত জল না খেলে পেশির কার্যক্ষমতা কমে যায় এবং শিরায় টান ধরতে পারে। বিশেষ করে গরমে বা বেশি ঘাম হলে এই সমস্যা আরও বাড়ে। দ্বিতীয়ত, শরীরে পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজের ঘাটতি থাকলেও পায়ের পেশিতে টান ধরতে পারে। এই খনিজগুলো পেশিকে স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে। তৃতীয়ত, দীর্ঘ সময় এক জায়গায় বসে থাকা বা দাঁড়িয়ে থাকা, হঠাৎ বেশি হাঁটা বা ব্যায়াম না করে হঠাৎ শারীরিক পরিশ্রম করলেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় অনুপযুক্ত জুতো পরাও পায়ের তলায় চাপ সৃষ্টি করে। বয়স্ক মানুষদের ক্ষেত্রে রক্ত সঞ্চালন কমে যাওয়ার কারণেও এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। এছাড়া ডায়াবেটিস বা থাইরয়েডের মতো কিছু রোগ থাকলেও পেশিতে টান ধরতে পারে।
এখন আসা যাক সমাধানে। প্রথমেই পর্যাপ্ত জল পান করতে হবে। দিনে অন্তত ৮–১০ গ্লাস জল শরীরের হাইড্রেশন ঠিক রাখে এবং শিরার টান কমায়। খাদ্যতালিকায় কলা, দুধ, বাদাম, পালং শাক এবং ডাল রাখলে শরীরে প্রয়োজনীয় খনিজের ঘাটতি পূরণ হয়। এতে পেশি শক্তিশালী থাকে এবং টান কমে যায়। যখন পায়ের তলায় টান ধরে, তখন ধীরে ধীরে সেই পেশি স্ট্রেচ করা উচিত। পা সোজা করে আঙুলের দিকে টান দিলে আরাম পাওয়া যায়। হালকা ম্যাসাজও খুব উপকারী।
গরম জলের সেঁক দিলে পেশি শিথিল হয় এবং ব্যথা কমে যায়। রাতে ঘুমানোর আগে হালকা স্ট্রেচিং করলে এই সমস্যা অনেকটা প্রতিরোধ করা যায়। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—আরামদায়ক জুতো ব্যবহার করা। খুব টাইট বা হাই হিল জুতো এড়িয়ে চলা উচিত। সবশেষে, যদি এই সমস্যা বারবার হয় বা খুব তীব্র হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ এটি কখনও কখনও শরীরের ভেতরের অন্য সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে। সঠিক জীবনযাপন, পুষ্টিকর খাবার এবং নিয়মিত যত্ন নিলে পায়ের তলার শিরায় টান ধরার সমস্যা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।