আজকালকার দিনে, প্রায় অনেক ঘরেই ক্যান্সারের মতন মারণ রোগের প্রবেশ হয়েছে বলেই শুনতে পাওয়া যায়। এমনকি, এই রোগ যেমন ভয়ংকর, তেমনই এর চিকিৎসা দীর্ঘ, কঠিন এবং ব্যয় সাপেক্ষ। এই সূত্র ধরে বলে ভালো, এখনও এমন অনেক পরিবার রয়েছে যাঁরা আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের ওপর ভরসা রাখে। এমনকি, এই আয়ুর্বেদ শাস্ত্রমতে শরীরের যদি বাত-পিত্ত-কফ-এই তিনটি দোষের ভারসাম্য নষ্ট হয় তাহলে তার ক্যান্সার হওয়ার প্রবণতা থাকতে পারে। জানা যাচ্ছে, শরীরের টক্সিন জমে যাওয়া এবং হজম শক্তি দুর্বল হওয়ার মারণ রোগ হওয়ার অন্যতম কারণ বলে মনে করে আয়ুর্বেদ শাস্ত্র। তবে, একথা ঠিক আয়ুর্বেদ যে এই রোগ নির্মূল করে তা কখনই নয়। কিন্তু, শরীরে বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলার জন্য কিংবা রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য শক্তি জোগাতে পারে আয়ুর্বেদ শাস্ত্র। চলুন, তাহলে জেনে নেওয়া যাক, ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের কোন কোন উপাদান কার্যকরী হয়-
হলুদ:
হলুদে থাকা কারকিউমিন নামক উপাদানটি ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করে। হলুদের এই কারকিউমিন শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। এটি শরীরের প্রদাহ কমায় এবং ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি রোধ করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে স্তন, কোলন এবং ত্বকের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে এটি অত্যন্ত কার্যকর।
অশ্বগন্ধা:
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অশ্বগন্ধা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করার পাশাপাশি ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। জানা যাচ্ছে, আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের এই উপাদান নাকি কেমোথেরাপির পর হওয়া দুর্বলতা কাটাতে সাহায্য করে। অশ্বগন্ধা খেলে ভালো ঘুম হয় ও সঙ্গে মানসিক চাপ কমে। গবেষদেকের মতে, অশ্বগন্ধা ক্যান্সারের কোষ বৃদ্ধি রোধ করতে সাহায্য করে।
তুলসী:
তুলসীতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধিতে বাধা দিতে সাহায্য করে। তুলসী মানসিক শক্তি বাড়ায় ও ফুসফুস পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।
কালমেঘ পাতা:
এই পাতা স্বাদে তিক্ত হলেও খুবই শক্তিশালী এক ভেষজ। এই পাতা শরীরের টক্সিন কমায় ও লিভার পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। এরই সঙ্গে হজমশক্তি ও মেটাবলিজম উন্নত করে।