সোডিয়াম ও পটাসিয়াম আমাদের শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি খনিজ উপাদান। এগুলো শরীরের জলীয় ভারসাম্য বজায় রাখা, স্নায়ুর কার্যক্রম ঠিক রাখা এবং পেশির স্বাভাবিক কাজ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শরীরে এই দুই উপাদানের ঘাটতি দেখা দিলে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যা হতে পারে।
সোডিয়ামের ঘাটতিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় “হাইপোন্যাট্রেমিয়া” বলা হয়। অতিরিক্ত ঘাম, বমি, ডায়রিয়া, পর্যাপ্ত লবণ না খাওয়া বা অতিরিক্ত জল পান করার কারণে এই সমস্যা হতে পারে। শরীরে সোডিয়াম কমে গেলে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, মাথাব্যথা এবং মনোযোগ কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। গুরুতর অবস্থায় রোগী অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে কিংবা খিঁচুনিও হতে পারে। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
অন্যদিকে পটাসিয়ামের ঘাটতিকে বলা হয় “হাইপোক্যালেমিয়া”। দীর্ঘদিন অপুষ্টি, অতিরিক্ত ডায়রিয়া, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অথবা কিডনির সমস্যার কারণে শরীরে পটাসিয়াম কমে যেতে পারে। পটাসিয়াম কমে গেলে পেশিতে ব্যথা, হাত-পায়ে ঝিনঝিনি অনুভূতি, দুর্বলতা এবং হৃদস্পন্দনের অনিয়ম দেখা দিতে পারে। অনেক সময় রোগী খুব দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং স্বাভাবিক কাজ করতে অসুবিধা অনুভব করে। মারাত্মক ঘাটতি হলে হৃদযন্ত্রের কার্যক্রমও ব্যাহত হতে পারে।
সোডিয়াম ও পটাসিয়ামের ভারসাম্য বজায় রাখতে সুষম খাদ্য গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। প্রতিদিন পর্যাপ্ত জল পান করা, ফলমূল ও শাকসবজি খাওয়া এবং অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে চলা উচিত। কলা, নারকেলের জল , কমলা, পালং শাক এবং ডাবের পানি পটাসিয়ামের ভালো উৎস। অন্যদিকে পরিমিত লবণ শরীরে সোডিয়ামের চাহিদা পূরণে সাহায্য করে।
তাই শরীরে দুর্বলতা বা অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।