ইউরিক অ্যাসিড শরীরের একটি প্রাকৃতিক বর্জ্য পদার্থ, যা পুরিন নামক উপাদান ভাঙার ফলে তৈরি হয়। সাধারণত এটি রক্তের মাধ্যমে কিডনির সাহায্যে শরীর থেকে বের হয়ে যায়। কিন্তু কোনো কারণে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে গেলে তা শরীরে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।
প্রথমত, ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে গেলে সবচেয়ে বেশি যে সমস্যাটি দেখা যায় তা হলো গেঁটেবাত বা গাউট। এতে হঠাৎ করে জয়েন্টে তীব্র ব্যথা শুরু হয়, বিশেষ করে পায়ের বুড়ো আঙুলে। জয়েন্ট ফুলে যায়, লাল হয়ে ওঠে এবং ছোঁয়া লাগলেই অসহ্য যন্ত্রণা হয়। অনেক সময় রাতে এই ব্যথা বেশি তীব্র হয়।
দ্বিতীয়ত, শরীরে ইউরিক অ্যাসিড বেশি হলে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড জমে কিডনিতে স্ফটিক তৈরি করতে পারে, যা পরে পাথরে পরিণত হয়। এর ফলে প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, পিঠে ব্যথা এবং প্রস্রাবের সময় অস্বস্তি হতে পারে।
এছাড়াও, ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেশি থাকলে শরীরে ক্লান্তি, অবসাদ এবং চলাফেরায় অসুবিধা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় হাঁটতে বা বসতে কষ্ট হয়। দীর্ঘদিন এই সমস্যা থাকলে জয়েন্ট স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
কিছু ক্ষেত্রে ত্বকের নিচে ছোট ছোট গুটি বা টোফাই তৈরি হতে পারে, যা ইউরিক অ্যাসিডের স্ফটিক জমে হওয়া এক ধরনের কঠিন গঠন। এগুলো সাধারণত আঙুল, কনুই বা হাঁটুর আশেপাশে দেখা যায়।
সুতরাং, ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরি। সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত জল খাওয়া এবং নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে এই সমস্যা অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।