বর্তমান ব্যস্ত জীবনে মনোযোগ ধরে রাখা অনেকের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পড়াশোনা, অফিসের কাজ কিংবা দৈনন্দিন যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজে মনোযোগ না থাকলে সাফল্য অর্জন কঠিন হয়ে যায়। মোবাইল ফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মানসিক চাপ এবং অনিয়মিত জীবনযাপন মনোযোগ কমিয়ে দেয়। তবে কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তুললে মনোনিবেশ করার ক্ষমতা অনেকটাই বাড়ানো সম্ভব।প্রথমেই একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য ঠিক করা জরুরি। যখন আমরা জানি কী করতে হবে এবং কেন করতে হবে, তখন মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয়। বড় কাজকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে নিলে কাজের চাপ কম মনে হয় এবং মনোযোগও বাড়ে। একসঙ্গে অনেক কাজ করার চেষ্টা না করে একটি কাজ শেষ করে অন্য কাজে যাওয়াই ভালো।মনোযোগ বাড়ানোর জন্য পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ। কাজ বা পড়াশোনার সময় শান্ত ও পরিষ্কার জায়গা বেছে নেওয়া উচিত। টিভি, মোবাইল ফোন কিংবা অতিরিক্ত শব্দ মনোযোগ নষ্ট করে। তাই কাজের সময় অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা এবং নিরিবিলি পরিবেশে বসা কার্যকর উপায় হতে পারে।পর্যাপ্ত ঘুম ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসও মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে। ঘুম কম হলে মস্তিষ্ক ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না এবং সহজেই ক্লান্তি আসে। প্রতিদিন অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন। পাশাপাশি ফল, শাকসবজি, বাদাম ও পর্যাপ্ত পানি শরীর ও মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে। অতিরিক্ত জাঙ্কফুড বা অতিরিক্ত চিনি মনোযোগ কমিয়ে দিতে পারে।নিয়মিত ব্যায়াম এবং ধ্যান মনকে শান্ত রাখতে সাহায্য করে। প্রতিদিন কিছু সময় হাঁটাহাঁটি, যোগব্যায়াম বা মেডিটেশন করলে মানসিক চাপ কমে এবং মনোযোগ বাড়ে। বিশেষ করে গভীর শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস মনকে স্থির করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।এছাড়া কাজের মাঝে ছোট বিরতি নেওয়াও জরুরি। দীর্ঘ সময় একটানা কাজ করলে মস্তিষ্ক ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তাই নির্দিষ্ট সময় পর কয়েক মিনিট বিশ্রাম নিলে আবার নতুন উদ্যমে কাজ করা যায়।সবশেষে বলা যায়, মনোনিবেশ করার ক্ষমতা একদিনে তৈরি হয় না। নিয়মিত অনুশীলন ও সঠিক অভ্যাসের মাধ্যমে ধীরে ধীরে মনোযোগ বাড়ানো সম্ভব। মনোযোগী মানুষ সাধারণত কাজ দ্রুত ও ভালোভাবে সম্পন্ন করতে পারে। তাই সফল ও সুন্দর জীবন গড়তে মনোনিবেশের অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।