এই বিষয়ে বলতে গেলে প্রথমেই যে কথা টি বলতে হবে তা হলো সমাজ বদলেছে ,সময় বদলেছে ,আর সেই সঙ্গে বদলেছে মেয়েদের জীবনের ভাবনা ও লক্ষ। একসময়ে মেয়েদের জীবনের প্রধান উদ্যেশ্য হিসাবে বিয়েকেই চূড়ান্ত ধরা হতো। কিন্তু আজকের দিনে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন উঠছে মেয়েদের জন্য আসল প্রয়োজন কি ? বিয়ে নাকি স্বনির্ভরতা ? যদিও এই প্রশ্নের উত্তর এক রেখায় টানা যায়না। তবে সময়ের দাবি স্বনির্ভরতা কেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
স্বনির্ভরতা মানে কেবল আর্থিক উপার্জন নয় , এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে আত্মসম্মান ,সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাস। একজন স্বনির্ভর মেয়ে নিজের জীবন সম্পর্কে নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারে - সে কখন বিয়ে করবে ,আদতেই করবে কিনা বা কেমন জীবন সে বেছে নেবে। শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠা মেয়েদের শুধু অর্থনৈতিক নিরাপত্তা দেয় না ,বরং সামাজিক ভাবে শক্ত অবস্থানও তৈরি করে। এতে সংসারেও সে হয়ে ওঠে সমান অংশীদার - নির্ভরশীল নয়।
তবে পাশাপাশি এ কথা বলা যায় যে বিয়ে কোনো সমস্যা নয়। পারস্পরিক সন্মাম ও বোঝাপড়ার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা বিয়ে একজন নারীর জীবনে স্থিতি ও সুখ আনতে পারে। কিন্তু সমস্যা তখনি হয় যখন বিয়ে কে মেয়েদের একমাত্র লক্ষ হিসাবে চাপিয়ে দেওয়া হয়, কিংবা স্বনির্ভর হওয়ার আগেই তাকে সংসারের দায়ভার বইতে বাধ্য করা হয়। আর ঠিক এই কারণেই তার স্বপ্ন শিক্ষা ও সম্ভবনা থমকে যায়।
আজকের দিনে একটি বিষয় ভীষণই গুরুত্বপূর্ণ যেটা, সেটা হলো বিয়ে হবে কি না , কবে হবে - এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার মেয়ের নিজের হওয়া উচিত। আর সেই স্বাধীনতার ভিত্তি গড়ে দেয় স্বনির্ভরতা। একজন স্বনির্ভর মেয়ে চাইলে বিয়ে করবে ,আবার চাইলে একা থেকেও সম্মানজনক জীবন গড়ে তুলতে পারবে।
সব মিলিয়ে বলা যায় ,আজকের সমাজে মেয়েদের বিয়ে কোনো বাধ্যবাধকতা নয় ,বরং একটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। আর সেই সিদ্ধান্ত কে সত্যিকার অর্থে স্বাধীন ও সুস্থ করে তোলে মেয়েদের স্বনির্ভরতা। তাই বিয়ের আগে বা বিয়ের পাশাপাশি স্বনির্ভরতা আজকের দিনে মেয়েদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।