বর্ষা শুরু হতেই ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে দার্জিলিংয়ে। টানা বৃষ্টিতে একেবারে বিপদের মুখে পাহাড়। একের পর এক ধসে বিপর্যস্থ জনজীবন। বৃষ্টিতে একদমই খারাপ পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে জাতীয় সড়কে। তাই পর্যটকদের য...
বর্ষা শুরু হতেই ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে দার্জিলিংয়ে। টানা বৃষ্টিতে একেবারে বিপদের মুখে পাহাড়। একের পর এক ধসে বিপর্যস্থ জনজীবন। বৃষ্টিতে একদমই খারাপ পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে জাতীয় সড়কে। তাই পর্যটকদের যাতায়াতের কথা ভেবে তাঁদের প্রিয় দার্জিলিংয়ের রক গার্ডেন এবং গঙ্গামায়া পার্ক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিল জিটিএ। প্রাণহানির ঘটনা না-ঘটলেও যে ভাবে দার্জিলিংয়ে একের পর এক বহুতল তৈরি হয়েছে তাতে আরও বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
পাশাপাশি বন্য়ায় ভয়ংকর পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে সিকিমে। বৃষ্টির জেরে তিস্তা ফুলেফেঁপে উঠে জাতীয় সড়কের ক্ষতি করেছে। জুন মাসের বেশির ভাগ দিনই ধসের জেরে সড়ক বন্ধ ছিল। এখনও অধিকাংশ রাস্তাই বন্ধ। ইতিমধ্য়ে মৃত্য়ু হয়েছে ৫২ জনের। মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে। ঘরছাড়া হয়েছেন বহু মানুষ। অনেকের ঠাঁই হয়েছে ত্রাণশিবিরে। সূত্রের খবর, গত ২৪ ঘণ্টায় অসমে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে, বন্যার দ্বিতীয় পর্যায়ে রাজ্যের ৩৫টি জেলার মধ্যে ৩০টি জেলা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রাজ্যজুড়ে ২৪ লক্ষেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
আগামী সপ্তাহের শুরু থেকেই ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস উত্তরবঙ্গ। উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় আগামী কয়েক দিন ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। যার জেরে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত চলবে উত্তরবঙ্গে। এদিন ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে। অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস কালিম্পং এবং কোচবিহরে। বাকি জেলাগুলিতে বিক্ষিপ্ত হাল্কা বৃষ্টি হতে পারে। আগামী ৮ তারিখ, সোমবার উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহারে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ১০ এবং ১১ তারিখ উত্তরবঙ্গের সব জেলাতেই ভারী বৃষ্টি চলবে।
সম্প্রতি উত্তরবঙ্গ জুড়ে ভারী বৃষ্টি চললেও দার্জিলিংয়ে দু’একদিনের বেশি ভারী বৃষ্টিপাত হয়নি। তার পরেও কেন ধস নামল তা নিয়েই তৈরি হয়েছে কৌতূহল। যা নিয়ে বারংবার উঠেছে অবৈধ নির্মাণের অভিযোগ। একের পর এক বহুতলের চাপেই এমন ঘটনা কি না, সেই প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অবিলম্বে, দার্জিলিংয়ে বহুতল নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা জারির পাশাপাশি যে সমস্ত বহুতল তৈরি করা হয়েছে সেগুলির স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হোক।