চিন-পাকিস্তানের দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে ‘ব্রহ্মস’ ক্ষেপণাস্ত্র। অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তানের একের পর এক বায়ুসেনা ঘাঁটি ধ্বংস করে নিজের মারণ ক্ষমতা দেখিয়েছে ব্রহ্মস। পাকিস্তানের পর এবার চিনকে নজরে রেখে সুপা...
চিন-পাকিস্তানের দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে ‘ব্রহ্মস’ ক্ষেপণাস্ত্র। অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তানের একের পর এক বায়ুসেনা ঘাঁটি ধ্বংস করে নিজের মারণ ক্ষমতা দেখিয়েছে ব্রহ্মস। পাকিস্তানের পর এবার চিনকে নজরে রেখে সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্রহ্মসকে আরও শক্তিশালী করতে উদ্যত হল ভারত। সেই লক্ষ্যে কেন্দ্রের তরফে নেওয়া হয়েছে পাঁচ দফা কর্মসূচি।
বর্তমানে স্থলভাগ, যুদ্ধজাহাজ, বিমান এবং ডুবোজাহাজ—এই চারটি ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয় ব্রহ্মস। এবার সেই মারণাস্ত্র হাইপারসনিক স্তরে উন্নীত হচ্ছে, যার গতিবেগ হবে শব্দের চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি। স্থলভূমি বা যুদ্ধজাহাজ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ব্রহ্মসের পাল্লা ২৯০ থেকে ৪০০ কিলোমিটার। বিমান বা ডুবোজাহাজে ব্যবহৃত সংস্করণের কিছুটা কম।
নতুন পাঁচ দফা পরিকল্পনায় ব্রহ্মসের পাল্লা এবং গতিবেগ দু’টিই বাড়ানো হচ্ছে। নয়া সংস্করণে স্থলভূমি বা যুদ্ধজাহাজ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ব্রহ্মসের পাল্লা হবে ৮০০ কিলোমিটার। পাশাপাশি, সুপারসনিক থেকে হাইপারসনিক (শব্দের চেয়ে পাঁচ গুণ বা তার বেশি গতিবেগসম্পন্ন) ক্ষেপণাস্ত্রের স্তরে উন্নীত হবে ব্রহ্মস। ইতিমধ্যেই রাশিয়া নয়া হাইপারসনিক ‘ব্রহ্মস মার্ক-২’ ব্যবহার শুরু করেছ, যা ভারতীয় সেনার হাতে এলে পাকিস্তানের পাশাপাশি চিনের বিস্তীর্ণ অংশও নাগালে চলে আসবে।
অপারেশন সিঁদুরের সময়ই প্রথম ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার হয়নি। এর আগেও ২০২২ সালে পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র। ভারত বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র সম্প্রসারণের উপর জোর দিচ্ছে। ভারতের হাতে বর্তমানে বিমান, ভূমি এবং সাবমেরিন ব্রহ্মস রয়েছে। ২০০১ সালে ওড়িশার উপকূল থেকে প্রথম এর সফল পরীক্ষা করা হয়েছিল। বিমান থেকে ব্রহ্মস-A ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণের অসাধারণ সাফল্যের পর, হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড এবং ভারতীয় বায়ুসেনা তাদের ক্ষমতা আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়েছে।
বর্তমানে বায়ুসেনার ব্যবহৃত ব্রহ্মসের ওজন ১২০০ কিলোগ্রাম বা তার কিছু বেশি। স্থল বা যুদ্ধজাহাজ সংস্করণের ওজন প্রায় ৩০০০ কিলোগ্রাম। নতুন পরিকল্পনায় ১০০০ কিলোগ্রামেরও কম ওজনের ব্রহ্মস নির্মিত হবে। সাবমেরিন থেকে যাতে উৎক্ষেপণ করা যায় তার জন্য ভারতের P75I প্রোগ্রামে সাবমেরিন তৈরি করা হবে। রাফাল এবং অন্যান্য যুদ্ধবিমানের জন্য একটি ক্ষুদ্রাকৃতি হালকা ব্রহ্মস তৈরির কাজও চলছে। একটি হাইপারসনিক ব্রহ্মস তৈরির কাজ চলছে, যার গতি এবং টিকে থাকার ক্ষমতা আরও বেশি হবে।