তবে কি ফের লাদাখ সীমান্তে ভারতের বিরুদ্ধে গোপনে যুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু করেছে চিন? গোয়েন্দা সূত্র এবং মার্কিন স্যাটেলাইট চিত্র বিচার বিশ্লেষণ করে এমন আশঙ্কার কথা উড়িয়ে দিতে পারছেন না প্রতিরক্ষা বিশেষজ...
তবে কি ফের লাদাখ সীমান্তে ভারতের বিরুদ্ধে গোপনে যুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু করেছে চিন? গোয়েন্দা সূত্র এবং মার্কিন স্যাটেলাইট চিত্র বিচার বিশ্লেষণ করে এমন আশঙ্কার কথা উড়িয়ে দিতে পারছেন না প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। সম্প্রতী যে উপগ্রহ চিত্র ভারতীয় গোয়েন্দাদের হাতে এসেছে তা বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে পূর্ব লাদাখের হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় বরফে ঢাকা পর্বত শৃঙ্গে ট্যাঙ্ক, সাজোয়া গাড়ি, কামান সহ ভারী অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে সামরিক মহড়া চালাচ্ছে পিপলস লিবারেশন আর্মির ঢিংজিয়ান সেনা কমান্ডারের অধীন মেকানিক রেজিমেন্ট। গোলন্দাজ বাহিনী ছাড়াও এই যুদ্ধাভ্যাসে যুক্ত হয়েছে পিএলএ-র ড্রোন ইউনিটও। এমনিতে সারা বছরই অত উচ্চতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে টুকটাক সামরিক মহড়া করে দু দেশের সেনাই। কিন্তু ডিসেম্বর, জানুয়ারির প্রবল ঠান্ডায় ১৯ হাজার ফুটেরও বেশি উচ্চতায় ড্রাগন কেন সামরিক মহড়া চালাচ্ছে তাতেই কপালে চিন্তার ভাঁজ বাড়ছে সেনা কর্তাদের। বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই মহড়া সাধারণ যুদ্ধ মহড়া থেকে একেবারেই আলাদা। বিশ্বের উচ্চতম যুদ্ধক্ষেত্রে চরম আবহাওয়ার সঙ্গে সেনাকে প্রস্তুত করে নিতেই মহড়া চালিয়েছে পিপলস লিবারেশন আর্মি। বিষয়টির আঁচ পেয়ে সেনাবাহিনীকে সতর্ক করেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকও। সেনার পাশাপাশি সতর্ক করা হয়ছে ভারতীয় বায়ু সেনাকেও।
প্রসঙ্গত ২০২০ সালে গালওয়ানে ভারত-চিন সেনা সংঘাতের জেরে শহিদ হন এক কমান্ডার সহ ১৫ জন ভারতীয় সেনা জওয়ান। মৃত্যু হয় ৫০ থেকে ৬০ জন চিনা সেনারও। তবে এক কমান্ডারের মৃত্যুর খবর ছাড়া আর কোনো মৃত্যুর ঘটনা স্বীকার করেনি বেজিং। সেই ঘটনার জেরে সীমান্তে যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়। দফায় দফায় দুদেশের সেনা কমান্ডার এবং কূটনৈতিকদের বৈঠকের পর অবশেষে সম্পর্কের বরফ গলে। ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে সমঝোতার পর এলএলি থেকে সেনা পিছিয়ে নেয় দু দেশ। সীমান্ত থেকে সেনা সংখ্যা কমানোও হয়, কিন্তু ডিসেম্বর, জানুয়ারির শীতে ড্রাগণের গোপনে ব্যাপক যুদ্ধাভ্যাস চিন্তার ভাঁজ ফেলছে ঘর পোড়া গরু নয়া দিল্লির কপালে।