অসমে বন্যার জল ধীরে ধীরে নামতে শুরু করলেও স্বস্তি ফিরছে না। বরং নতুন করে আতঙ্ক বাড়িয়েছে মৌসম ভবনের পূর্বাভাস। আগামী তিন দিন অসম-সহ উত্তর-পূর্ব ভারতের একাধিক রাজ্যে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা...
অসমে বন্যার জল ধীরে ধীরে নামতে শুরু করলেও স্বস্তি ফিরছে না। বরং নতুন করে আতঙ্ক বাড়িয়েছে মৌসম ভবনের পূর্বাভাস। আগামী তিন দিন অসম-সহ উত্তর-পূর্ব ভারতের একাধিক রাজ্যে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে। ফলে যেসব এলাকায় বন্যার জল সরে যেতে শুরু করেছে, সেগুলিও ফের প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বুধবার রাজ্যে আরও তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, শিবসাগর জেলায় দু’জন এবং গোলাঘাট জেলায় এক জন প্রাণ হারিয়েছেন। এর ফলে চলতি বন্যায় অসমে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮।
বর্তমানে রাজ্যের সাতটি জেলা এখনও বন্যার কবলে। সরকারি হিসেব অনুযায়ী, তিন লক্ষেরও বেশি মানুষ এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রায় সাড়ে পাঁচশো গ্রাম এখনও জলমগ্ন। পাশাপাশি ২১ হাজার ৫২৩ হেক্টরেরও বেশি কৃষিজমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গিয়েছে, যা কৃষকদের জন্য বড় ধাক্কা।
এদিকে মৌসম ভবন জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনে অসমের পাশাপাশি অরুণাচল প্রদেশ ও নাগাল্যান্ডেও প্রবল বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে অসমের তিনসুকিয়া জেলা এবং নাগাল্যান্ডের মোন, মোকোকচুং ও বোখা জেলায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই বৃষ্টির প্রভাব ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় নতুন করে জলস্তর বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি করছে।
বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলেও বহু এলাকায় এখনও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা শুরু করা সম্ভব হয়নি। কোথাও কোথাও বাসিন্দারা বাড়ি ফিরতে শুরু করলেও ঘরবাড়ি কাদা, ধ্বংসাবশেষ ও নোংরা জলে ভরে থাকায় বসবাসের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত চরাইদেও জেলা, যেখানে প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার মানুষ এখনও বন্যার প্রভাবে রয়েছেন। শিবসাগরে প্রায় ৮৪ হাজার ৬০০ এবং যোরহাটে প্রায় ৪৯ হাজার ৯১১ জন মানুষ এখনও দুর্যোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
প্রশাসন উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও নতুন করে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।