জঙ্গিযোগ সন্দেহে ধৃত হামিম মণ্ডলকে জেরা করে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ধার করল গোয়েন্দারা। সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপর নজরদারি চালাতে নিউটাউনে তাঁর বাসভবনের কাছেই একটি বাড়িতে ভা...
জঙ্গিযোগ সন্দেহে ধৃত হামিম মণ্ডলকে জেরা করে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ধার করল গোয়েন্দারা। সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপর নজরদারি চালাতে নিউটাউনে তাঁর বাসভবনের কাছেই একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতে শুরু করেছিলেন হামিম। নিয়মিত মুখ্যমন্ত্রীর যাতায়াতের পথও রেকি করতেন ধৃত। একাধিকবার মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির আশপাশেও ঘুরতে দেখা যায় তাঁকে।
গত সপ্তাহেই বর্ধমান থেকে হামিমকে পাকড়াও করেছে রাজ্য পুলিসের এসটিএফ। তদন্তকারী সূত্রে দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে ছবি বা ভিডিয়ো তোলার চেষ্টা করেছিলেন হামিম। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে অতিরিক্ত সিসিটিভি ক্যামেরা থাকায় চিহ্নিত হয়ে যাওয়ার ভয় ছিল তাঁর। সেই কারণেই ছবি তোলার সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসেন তিনি। পুলিস সূত্রে খবর, জেরায় হামিম স্বীকার করেছেন, পাকিস্তানে থাকা হ্যান্ডলাররা তাঁকে ছবি বা ভিডিয়ো তোলার বিষয়ে আগাম সতর্ক করেছিল।
এসটিএফ সূত্রে আরও খবর, মোবাইল টাওয়ারের অবস্থান খতিয়ে দেখে তদন্তকারীরা হামিমের আগের গতিবিধি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে যান। সেখানেই ধরা পড়ে যে, শুভেন্দুর বাড়ির সামনে বেশ কয়েকবার গিয়েছিলেন হামিম। এই বিষয়ে তদন্তকারীদের কাছে প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও প্রথমে তা অস্বীকার করেন তিনি। পরে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তিনি জানান, বেশ কয়েক বার মুখ্যমন্ত্রীর চিনার পার্কের বাড়ির আশপাশে রেকি করতে গিয়েছিলেন তিনি। এমনকি শুভেন্দু যে পথ ধরে যাতায়াত করেন, সেগুলিতেও রেকি করা হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, জঙ্গিযোগ সন্দেহে হামিমের পাশাপাশি তাঁর বান্ধবী অর্পিতা সরকার এবং আদিত্য সিংহ ওরফে রাজ নামে হাওড়ার যুবকককে গ্রেফতার করেছে পুলিস। অভিযোগ, পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই এবং সে দেশের কুখ্যাত গ্যাংস্টার শাহজাদ ভাট্টির গোষ্ঠীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল ধৃতদের। এমনকি পশ্চিমবঙ্গে নাশকতা মূলক ঘটনা ঘটানোর পরিকল্পনাও ছিল তাঁদের। নিশানায় ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু ও রাজ্যের এক মন্ত্রীও। পুলিস সূত্রে খবর, অর্পিতাকে ‘হানিট্র্যাপ’ হিসাবে ব্যবহার করা হত। নেতা-মন্ত্রী এবং আমলাদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে তাঁদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করতেন অর্পিতা।