পশ্চিম এশিয়ায় দ্রুত বদলে যাওয়া যুদ্ধ পরিস্থিতিকে সামনে রেখে দেশের নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা পর্যালোচনায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এ...
পশ্চিম এশিয়ায় দ্রুত বদলে যাওয়া যুদ্ধ পরিস্থিতিকে সামনে রেখে দেশের নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা পর্যালোচনায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা সংক্রান্ত কমিটির (CCS) সদস্যরা, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা-সহ বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষ আমলারা।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল, কিরেণ রিজিজু, জে.পি. নাড্ডা, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী এবং বন্দর, নৌপরিবহন ও জলপথমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল।
সূত্রের খবর, পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির জেরে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা, অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ এবং সমুদ্রপথে বাণিজ্যের উপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েই মূলত বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, যে কোনও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সংশ্লিষ্ট সমস্ত মন্ত্রক প্রস্তুত রয়েছে।
বৈঠকে দেশের জ্বালানি সরবরাহ যাতে কোনওভাবেই ব্যাহত না হয়, সেই বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও কেন্দ্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানানো হয়েছে। কৃষিক্ষেত্র নিয়েও আশ্বস্ত করেছে কেন্দ্র। বৈঠকে জানানো হয়েছে, দেশের সার মজুত পর্যাপ্ত রয়েছে এবং চলতি রবি মরশুম ও আগামী খরিফ চাষের জন্য প্রয়োজনীয় সারের কোনও ঘাটতির আশঙ্কা নেই। একইসঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ পিএনজি উৎপাদনও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বৈঠকে তুলে ধরা হয়।
এদিকে পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে উত্তেজনা চরমে উঠেছে। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা কার্যত ভেস্তে যাওয়ার পর গত দেড় সপ্তাহ ধরে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। বৃহস্পতিবার ইরানি হামলার জবাবে তেহরান-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী।
ইরানের সংবাদমাধ্যমের দাবি, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। হরমুজ প্রণালীর কেশম দ্বীপে পরপর বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। দ্বীপের জনবহুল এলাকাও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে খবর। পাশাপাশি বুশেহর শহরেও শক্তিশালী বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে বিস্তীর্ণ এলাকা। যদিও এখনও পর্যন্ত হতাহতের নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ্যে আসেনি, তবে একাধিক মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে।আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা, বাণিজ্যিক স্বার্থ এবং নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় সরকারের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।