ফের টার্নিং পয়েন্ট বিহার? দুঃসময়ে দু্র্গম পথে হাতির পিঠে সওয়ার হয়েছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। গন্তব্যস্থল: বিহার। সময়: সত্তর দশকের শেষ দিক। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষদের মতে, ইন্দিরার রাজনৈতিক জীবনে টার্নিং পয়েন্ট ...
ফের টার্নিং পয়েন্ট বিহার? দুঃসময়ে দু্র্গম পথে হাতির পিঠে সওয়ার হয়েছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। গন্তব্যস্থল: বিহার। সময়: সত্তর দশকের শেষ দিক। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষদের মতে, ইন্দিরার রাজনৈতিক জীবনে টার্নিং পয়েন্ট হয়ে উঠেছিল বিহারের সেই 'হাতিতে আগমন'। প্রায় ৫ দশক পর, বিহারে তাঁর পৌত্র রাহুলের 'বাইকে আগমন' কি কংগ্রেসের কাছে টার্নিং পয়েন্ট হয়ে উঠবে?
জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ দেগে বিহারে 'ভোটার অধিকার যাত্রা' শুরু করেছেন লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। ১ হাজার ৩০০ কিলোমিটার যাত্রা-পথে তাঁর স্লোগান একটাই 'এক ব্যক্তি এক ভোট'। যা আদতে বিজেপির 'এক দেশ এক ভোট'-এর প্রতিস্পর্ধী বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। রবিবার তাঁর যাত্রপথের অষ্টম দিনে মাথায় হেলমেট পরে বাইকে সওয়ার হলেন রাহুল। সঙ্গে বিহারে আরজেডির মুখ তেজস্বী যাদব। রাহুলকে 'ইন্ডিয়া'র প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চেয়ে জনতার কাছে উদ্বাত্ত আহ্বান করেছেন যিনি। রবিবার অষ্টমদিনের 'যাত্রা'পথে কৃষকদের মুখে শুনলেন তাঁদের অভাব-অভিযোগের কথা।
এদিন রাহুল-তেজস্বীর কনভয় অপ্রত্যাশিতভাবেই থমকে দাঁড়ায় কুরসেলার সিমারিয়ায়, মাখনা-ক্ষেতের কাছে। যেখানে বেশ কয়েকজন কৃষক জটলা করে দাঁড়ান রাহুলকে দেখে। জানান তাঁদের সমস্যার কথা।
কী সমস্যা?
অভিযোগ, মাখনা-চাষিদের লাভের গুড় খেয়ে ফেলছে ফড়ে-দালালরা। তার কারণ, রাজ্যে ন্যায্য মূল্যে ফসল বিক্রির কোনও কাঠামো নেই। প্রতি কিলোগ্রাম মাখনায় কৃষকরা পাচ্ছেন ৭০০ টাকা। আর, আমেরিকা-সহ বিশ্বের নানা দেশে তা রফতানি হচ্ছে তার কয়েকগুন বেশি টাকায়। দেশের মধ্যে তো বটেই, বিশ্বজুড়ে এখন মাখনার চাহিদা এখন ঊর্ধ্বমুখী। তা সত্ত্বেও দালালদের খপ্পড়ে পড়তে হচ্ছে মাখনা-চাষিদের।
রাহুলের পাশে তখন দাঁড়িয়ে ছিলেন বিহারের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি রাজেশ রাম। কৃষকরা যখন রাহুলের কাছে তাঁদের অভিযোগ-অনুযোগ জানাচ্ছিলেন, তখন সম্মতিসূচক মাথা নাড়তে দেখা যায় রাজেশকে।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এ-দেশে আজও কৃষি ও কৃষককে অবহেলা করলে তা রাজনৈতিক পরিণতি যে ভালো হয় না, তা বিলক্ষণ বোঝে রাজনৈতিক দলগুলি। বরং, কৃষকদের মনজয় করতে পারলে আখেরে লাভ হয় তাদের। প্রসঙ্গত, বছরপাঁচেক আগে, কেন্দ্রের মোদী সরকারের নয়া কৃষক আইনের বিরোধিতা করে, তিন-তিনটি সীমান্ত থেকে দিল্লিকে কার্যত ঘিরে ফেলেন বিক্ষোভকারীরা। রাজধানীর রাজপথে সেই কৃষক-বিক্ষোভের মোকাবিলা করতে হিমশিম হতে হয় নরেন্দ্র মোদীকে। শেষ অবধি, ওই আইন কার্যত রদ করতে বাধ্য হয় কেন্দ্রীয় সরকার। ওই সময়ে, কৃষকদের পাশে গিয়ে দাঁড়ান রাহুল গান্ধী-সহ বিরোধী শিবিরের তাবড় নেতারা। ইভিএম-মেশিনে কিছুটা হলেও তার মূল্য চোকাতে হয় পদ্মফুলকে। এমতাবস্থায়, ভোটমুখী বিহারে রাহুলের এই কৃষক-সাক্ষাৎ রাজনৈতিকভাবে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের কেউ কেউ।
প্রসঙ্গত, ভোটমুখী বিহারে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনী অভিযান (SIR) শুরু করে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। বাদ যায় ৬৫ লক্ষ নাম। নাগরিকত্বের নথি হিসেবে ভোটার-আধার-রেশন কার্ড গ্রাহ্য হবে কি হবে না, তা নিয়ে শুরু হয় প্রবল বিতর্ক। নির্বাচন কমিশনকে 'বিজেপির মুখপাত্র' ও মোদী-শাহের 'হাতের পুতুল' বলে দাবি করে সংসদ চত্বর থেকে নির্বাচন সদন ঘেরাওয়ের উদ্দেশে বিরোধী পক্ষের ৩০০ জন সাংসদ যাত্রা শুরু করেন। তারপর, বিজেপি-বিরোধী দলগুলি নিজেদের মধ্যে যাবতীয় দ্বিধা-দন্দ্ব কাটিয়ে, দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনতে এককাট্টা হয়, একেবারে নজিরবিহীনভাবে। আর, বিহারের সাসারাম থেকে ভোট অধিকার যাত্রা শুরু করেন রাহুল গান্ধী।