বাজেটের আগে আমজনতার জন্য সুখবর। এবছরও বাড়ছে না ট্রেনের ভাড়া। মূলত দিল্লি, বিহার সহ একাধিক রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা ভোট এবং শরিকি চাপের জন্যই ট্রেনের যাত্রী ভাড়া বাড়াতে পারছেন না রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈ...
বাজেটের আগে আমজনতার জন্য সুখবর। এবছরও বাড়ছে না ট্রেনের ভাড়া। মূলত দিল্লি, বিহার সহ একাধিক রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা ভোট এবং শরিকি চাপের জন্যই ট্রেনের যাত্রী ভাড়া বাড়াতে পারছেন না রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। গত ডিসেম্বরে রেলমন্ত্রী সংসদে জানান যাত্রী ভাড়ায় প্রায় ৫৭ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেয় রেল। রেল সেই টাকা তোলে মাল পরিবহন করে। প্রাক্তন রেলকর্তাদের দাবি বর্তমানে রেলের অপারেটিং রেশিয়ো ৯৮.৬৫ শতাংশ। অর্থাৎ ১০০ টাকা আয় করতে রেলের খরচ হয় প্রায় ৯৯ টাকা। মানে এক শতাংশের একটু বেশি লাভ দেখে রেল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন এবছর থেকে অষ্টম পে কমিশন চালু হলে বেতন ও পেনশন খাতে ৩০ থেকে ৩২ হাজার কোটি টাকা বাড়তি খরচ হবে রেলের। রেলমন্ত্রী সেই বাড়তি খরচের টাকার সিংহভাগ রেলের টিকিটের দাম বাড়িয়ে তুলতে চেয়েছিলেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। কিন্তু তাঁর সেই প্রস্তাবে সায় দেননি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিজেপির থিঙ্ক ট্যাঙ্করা জানিয়েছেন বাজেটের ৪ দিন পরই দিল্লিতে বিধানসভা ভোট। এবছর ভোট রয়েছে বিহারেও। সামনের বছর আবার পশ্চিমবঙ্গে ভোট। এই আবহে রেলের ভাড়া বৃদ্ধি করে আম জনতার সমর্থন হারাতে চায় না পদ্ম শিবির।
শুধু তাই নয় সংসদে একক সংখ্যাগরীষ্ঠতা নেই মোদী, অমিত শাহদের। ফলে শরিকি চাপও রয়েছে রেলের ভাড়া না বাড়ানোর জন্য। তাছাড়া রেলের বাতানুকুল শ্রেণী ফাস্ট এসি এবং সেকেন্ড এসিতে ভাড়া বাড়ালে বিমানের দিকে ঢুকতে পারেন উচ্চবিত্ত যাত্রীরা। তাতে আখেরে ক্ষতিই হবে রেলের। এমন নানা বিধ হিসেব নিকেশের পর রেল ভাড়া এবছর না বাড়ানোর পক্ষেই সিলমোহর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তবে ভাড়া না বাড়ালে যে রেলের আধুনিকীকরণ এবং সম্প্রসারণের কাজও টাকার অভাবে আটকে যাবে এমন আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত রেলকর্তাদের একাংশও।