লাদাখে চিনা সেনাকে টেক্কা দিতে বেলজিয়ামের প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছে সেনা। ডিআরডিওর বিজ্ঞানীদের নকশায় সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে লাইট ওয়েট ট্যাঙ্ক বা হাল্কা ট্যাঙ্ক জোরাবর তৈরির কাজ চলছে জোর কদমে। সম্প...
লাদাখে চিনা সেনাকে টেক্কা দিতে বেলজিয়ামের প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছে সেনা। ডিআরডিওর বিজ্ঞানীদের নকশায় সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে লাইট ওয়েট ট্যাঙ্ক বা হাল্কা ট্যাঙ্ক জোরাবর তৈরির কাজ চলছে জোর কদমে। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই ট্যাঙ্কের সফল পরীক্ষা ইতিমধ্যেই কয়েক দফা হয়ে গেছে বলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রের খবর। জোরাবরকে আরও আধুনিক, শক্তিশালী ও উন্নত করে তোলার জন্য এর কামান বসানোর বরাত দেওয়া হয়েছে বেলজিয়ামের সংস্থা জন ককেরিল ডিফেন্সকে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য ট্যাঙ্কের মুল অস্ত্র হল তার কামান এবং ট্যারেট। ট্যাঙ্কের মাথার উপর থেকে ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরতে পারে যে যন্ত্রটি তাকে ট্যারেট বলে। সেই ট্যারেট এবং কামান তৈরিতে বিশ্বের অন্যতম সেরা সংস্থা হল বেলজিয়ামের ককেরিল ডিফেন্স। এবার সেই ককেরিল সংস্থাকেই ভারতীয় প্রযুক্তিতে তৈরি জোরাবর ট্যাঙ্কের কামান এবং ট্যারেট সরবরাহের দায়িত্ব দিল ভারত। ফলে আরও ঘাতক, আরও হালকা এবং আরও অত্যাধুনির ট্যাঙ্ক পেতে চলেছে ভারতীয় সেনা বাহিনী। এই ট্যাঙ্কে থাকছে ১০৫ মিলিমিটারের কামান এবং স্টেনগান। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন তুলনায় হালকা এই জোরাবর ট্যাঙ্ক ভারতীয় সেনার হাতে চলে এলে লাদাখে ড্রাগনের দাদাগিরি বন্ধ হয়ে যাবে। লে, লাদাখের মতন উচু বরফ শীতল মরুভূমিতে চিনকে ঠেকাতে ২০২০ সালে হাল্কা ট্যাঙ্কের প্রয়োজনীয়তার কথা অনুভব করে ভারতীয় সেনা।
প্রসঙ্গত ভারতীয় সেনাবাহিনীতে অন্তর্গত রুশ টি-৯০ ট্যাঙ্ক ভীষ্ম, টি-৭২ ট্যাঙ্ক অজেয় এবং ডিআরডিওর তৈরি অর্জুন পাহাড়ি যুদ্ধের জন্য উপযুক্ত নয়। ভারী টি-৯০ ট্যাঙ্ক ভীষ্ম, টি-৭২ ট্যাঙ্ক অজেয় এবং ডিআরডিওর তৈরি অর্জুন লাদাখের মতন উচ্চ স্থানে নিয়ে যেতে অসুবিধায় পড়তে হয় ভারতকে। তাই সেনাকর্তারা প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের কাছে জরুরি ভিত্তিতে হাল্কা ট্যাঙ্কের দাবি জানান। লাদাখ সংঘর্ষের সময় চিনের পিএলএকে মোকাবিলা করতে ভারতীয় সেনাকে ভরসা করতে হয়েছিল ৮০ দশকে রাশিয়া থেকে আনা বিএমপি ২ ইনফ্যান্ট্রি ফাইটিং ভেহিকেল বা সাঁজোয়া গাড়ির উপর। বর্তমানে অবশ্য আমেরিকা থেকে অত্যাধুনিক ইনফ্যান্ট্রি ফাইটিং ভেহিকেল ট্রাইকার কিনছে ভারত। এরসঙ্গে ভারতে তৈরি দেশীয় প্রযুক্তিতে হাল্কা ট্যাঙ্ক জোরাবর চলে এলে পাহাড়ি যুদ্ধেও চিনকে মাত দেবার মতন সুবিধাজনক অবস্থানে চলে আসবে ভারতীয় সেনা। সেই লক্ষ্যেই জোরাবর তৈরিতে ঢিলেমি দিতে চাইছে না প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। ইতিমধ্যেই লাদাখের উচ্চ যুদ্ধক্ষেত্রে, রাজস্থানের মরুভূমিতে এবং গুজরাতের হাজিরায় বিভিন্ন পরিবেশে ট্রাক ট্রায়াল রান বা ট্যাঙ্ক বহনকারী ইস্পাতের চেনের সক্ষমতার প্রশ্নে সসম্মানে উত্তীর্ণ হয়েছে জোরাবর। আরও কিছু পরীক্ষা নিরিক্ষার পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব প্রথম দফায় অন্তত ১০০টি ট্যাঙ্ক ভারতীয় সেনার হাতে লাদাখের প্রতিরক্ষার জন্য তুলে দিতে চাইছে প্রতিরক্ষা দফতর।